তরুণ প্রজন্মের প্রতি সোনার বাংলা গড়ার আহ্বান স্পিকারের

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

তরুণ প্রজন্মকে দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত হয়ে আগামী দিনে একটি সম্ভাবনাময় সোনার বাংলা গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীন বাংলাদেশ রেখে গেছেন, যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, আসুন তার এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী দিনে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদা-সম্পন্ন দেশ ও জাতির আসনে অধিষ্ঠিত করি। এটাই হোক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের প্রত্যয়।’

জাতীয় জাদুঘরে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘হাসুমনির পাঠশালা’ আয়োজিত চিত্রাংকন কর্মশালা ও সুঁচিকর্ম প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে উদ্বোধক হিসেবে স্পিকার এসব কথা বলেন। হাসুমণির পাঠশালার সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মারুফা আক্তার পপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরেণ্য শিল্পী অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরী ও জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. মাকসুদুর রহমান পাটওয়ারী, স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় জাদুঘরের সচিব মো. শওকত নবী ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এবং টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুনায়েদ আহমেদ হালিম।

স্পিকার বলেন, আজকের বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের দিকে পা বাড়িয়েছে। ২০২১ সালে রূপকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মধ্যম আয়ের দেশ হবে, ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।

শিরীর শারমিন চৌধুরী বলেন, এই উত্তরণ ও অগ্রগতির পথে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজটি অত্যন্ত দুরূহ ছিল। ১৯৭৫ সালের পর দেশে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নিরন্তর সংগ্রাম করে গেছেন। গণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রগতি ও সংগ্রামের পথচলার মধ্যে বারবার তার জীবনে আঘাত এসেছে। কিন্তু কোনো কিছুই তাকে নিবৃত করতে পারেনি। ঠিক যেমনিভাবে তার পিতা বঙ্গবন্ধুকেও বারবার কারারুদ্ধ করে এমনকি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে গিয়েও নিবৃত করা যায়নি।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন সমগ্র বিশ্বে সমাদৃত। নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, তাদের তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নারীরা যেন পিছিয়ে না থাকে; সেসব কর্মপরিকল্পনা গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে এ ধরনের সৃষ্টিশীল কাজকে আরো উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সার্বিক ও সামগ্রিক চিন্তাভাবনা নিয়ে বাংয়লাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি নয়, শুধু বিদ্যুৎ বা সড়ক নির্মাণের অগ্রযাত্রা নয়, একটি জাতির সার্বিক অগ্রযাত্রার মহানায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হাসুমণির পাঠশালার প্রথম বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই কর্মশালায় আঁকা ৭১টি প্রতিকৃতি ও জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী ১০১টি সুঁচিশিল্প নিয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

 

"