তিন জেলায় সাজ সাজ রব

প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ দেখতে যাচ্ছেন কাল

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি এবং এর রেল সংযোগের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে কাল রোববার পদ্মা সেতু এলাকায় যাবেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী বহু প্রতীক্ষিত মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া, শরীয়তপুরের জাজিরা ও মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় যাবেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এই তিন জেলায় এখন সাজ সাজ রব।

সূত্র জানায়, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের’ আওতায় ঢাকার সঙ্গে যশোরের রেল লিংক রোডের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টার দিকে প্রথমে মাওয়ায় কাজের অগ্রগতি দেখবেন। এরপর ঢাকা-মাওয়া ও পাচর-ভাঙ্গা ৮ লেনের সড়কের কাজের অগ্রগতি দেখবেন এবং মাওয়ার দিকে রেল লাইন লিংকের কাজের উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী এর পর স্থায়ী নদী শাসন কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন ও মাওয়া দিকের সেতুর সামগ্রিক কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে মাওয়া গোল চত্বরে এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। দুপুরে জাজিরা পয়েন্টে সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন সরকারপ্রধান। পরে প্রধানমন্ত্রী শিবচরে যাবেন এবং ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে ৪ ও ৫ নং খুঁটির ওপর স্প্যানটি রাখা হয়েছে। স্প্যানের অংশগুলো চীন থেকে তৈরি করে জাহাজে করে আনা হয় বাংলাদেশে। ফিটিং করা হয় মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। মাওয়ায় এখন পর্যন্ত আনা ১৭টি স্প্যানের মধ্যে ৫টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। মাওয়া প্রান্তের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে কয়েকটি স্প্যান তৈরি হয়ে আছে। কাজের সুবিধার্থে এসব স্থনান্তর করা প্রয়োজন। অনেক খুঁটির কাজ চলছে, কিন্তু সেটির স্প্যান প্রস্তুত আছে। নতুন কোনো স্প্যান রাখার জায়গা নেই। ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর রাখা স্প্যানটি ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটির কাজ শেষ হলে তার ওপর স্থাপন করা হবে।

প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতুর কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ ও মূল সেতুর অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। নদীর মধ্যে যে ২৬২টি পাইল বসবে তার ১৮০টির কাজ শেষ হয়েছে। মূল সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ১২টি খুঁটির কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া জাজিরা প্রান্তে রেলওয়ে বক্স সø্যাব বসতে শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, সেতুর ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটির ওপর পাঁচটি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে জাজিরা প্রান্তে পৌনে এক কিলোমিটার কাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সেতুর কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যানটি। এর প্রায় ৪ মাস পর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে। এর মাত্র দেড় মাস পর ১১ মার্চ শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ধূসর রঙের তৃতীয় স্প্যান বসানো হয়। এর ২ মাস পর ১৩ মে বসে চতুর্থ স্প্যান। আর পঞ্চম স্প্যানটি বসে এক মাস ১৬ দিনের মাথায়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২টি খুঁটির ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

 

"