ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুরকে দুদকে তলব

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের মালিক এবং ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি জমি দখল, গ্যাস-বিদ্যুতের বিল বাকি, বিদেশে অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নাসির

উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে আগামী ১৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

নোটিশে অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে বলা হয়, ‘লতিফুর রহমানের ট্রান্সকম গ্রুপ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রুপভুক্ত বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ও ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে শত শত কোটি অবৈধ সম্পদ অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধ উপায়ে সরকারি জমি দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। বর্ণিত অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আপনার বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।’

যদিও দুদকের নোটিশ এখনো হাতে পাননি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম এই ধনকুবের ব্যবসায়ী। গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘আপনাদের ফোন পেয়েই আমি জানলাম। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।’

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজ হিসেবে যে ৫০ জনের তালিকা করা হয়েছিল তাতেও নাম ছিল লতিফুরের। তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার ট্রান্সকম গ্রুপের কাছেই প্রভাবশালী দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের মালিকানা রয়েছে। ১৯৯৮ সালে ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানায় বের হয় প্রথম আলো। ১৯৯১ সালে সৈয়দ মোহাম্মদ আলী ডেইলি স্টার পত্রিকা প্রকাশ করলেও পরে তাও কিনে নেয় ট্রান্সকম গ্রুপ।

বাংলাদেশের সাংবাদিকতার বিকাশে এই দুটি পত্রিকার ভূমিকা থাকলেও নানা সময় সরকারের পক্ষ থেকে ট্রান্সকমের দুইটি পত্রিকার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু ইস্যুতে তাদের সমালোচনা আছে। বিশ্বব্যাংক যখন দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ তুলে তখন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার তা ফলাও করে প্রচার করে। সে সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে নিয়ে নানা ব্যাঙ্গাত্মক লেখনীও প্রকাশ করে তারা। তবে কানাডার আদালত এই অভিযোগকে মিথ্যা বলার পর সেটি ফলাও করে আর প্রচার করেনি তারা।

ঢাকায় মেট্রোরেলের রুট নিয়েও জটিলতা তৈরিতেও প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সমালোচনা আছে। আর রুট নিয়ে নাগরিক সমাজের একাংশের আন্দোলনের কারণে প্রকল্পটি ৩ বছর পিছিয়েছে। গণমাধ্যম ছাড়াও নানা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ট্রান্সকম গ্রুপ। ট্রান্সকম ফুড লিমিটেড, ট্রান্সকম ইলেকট্রনিক লিমিটেড, ট্রান্সকম কাস্টমার প্রোডাক্টস লিমিটেড, বাংলাদেশ ল্যাম্পস লিমিটেড, টি হোল্ডিং লিমিটেড, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ট্রান্সক্র্যাফট লিমিটেড, বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডেরও মালিক তারা।

ট্রান্সকম গ্রুপের ব্যবসা শুরু হয়েছিল চা চাষের মাধ্যমে। লতিফুর রহমান নেসলে বাংলাদেশ, হোলসিম বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্টের চেয়ারম্যান। তিনি লিন্ডে বাংলাদেশ এবং ব্র্যাকের গভর্নিং বোর্ডের পরিচালক। এছাড়া তিনি আইসিসি বাংলাদেশের সহ-সভাপতি। ২০১৭ সালে রাজস্ব বোর্ড তাকে কর বাহাদুর সম্মাননাও দেয়।

 

"