খুনির অন্যরকম মহানুভবতা!

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

নিজের কিডনি বিক্রি করে সে টাকা দিয়ে বন্ধুর স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়েছেন এক যাবজ্জীবন সাজাভোগ করা খুনি। হত্যাকান্ডের মতো পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই তিনি এই অন্যরকম মহানুভবতা দেখিয়েছেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গতকাল মঙ্গলবার এ খবর জানায়। ২০০৭ সালের দিকে মোবাইলের টাওয়ার বসানো কেন্দ্র করে রাগের মাথায় নিজের চাচাকে খুন করেন সুকুমার নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় অনুতপ্ত হয়ে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। যাবজ্জীবন সাজা হয় তার। সুকুমার জানান, কী করলে কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করা যাবে তা নিয়ে ভাবতেন প্রতিনিয়ত। হঠাৎ এক দিন খবরের কাগজে এক দম্পতির কিডনি দানের কথা পড়ে নিজের একটি কিডনি দান করে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবেন বলে মনস্থির করেন সুকুমার। সেই ইচ্ছার কথা জানিয়ে জেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি লেখেন তিনি। আইনগত কারণে কোনো বন্দি এভাবে কিডনি দান করতে পারেন না, জানিয়ে প্রত্যুত্তর পাঠায় জেল কর্তৃপক্ষ। তবু হাল ছাড়েনি সুকুমার। তৎকালীন কেরালার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন তিনি। তার এমন ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ২০১৭ সালে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় তাকে। ছাড়া পেয়েই সুকুমার স্থানীয় সাথী মেডিকেল ইনফরমেশন সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিডনির সমস্যায় ভোগা ২১ বছরের এক যুবককে নিজের কিডনি দেন। তবে এজন্য তাকে মূল্য পরিশোধ করে ওই যুবক। সুকুমার জানান, জেলে থাকাকালীন এক বন্দির সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল তার। সেই বন্ধুর খোঁজে গেলে তিনি জানতে পারেন বন্ধুটি মারা গেছেন এবং তার স্ত্রী হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না এ নারী। এসব জেনে সঙ্গে সঙ্গে নিজের কিডনি বিক্রির টাকায় সুকুমার বন্ধুর স্ত্রীর চিকিৎসা করান। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ওই নারী।

"