দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন চায় বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সব মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্যবিমোচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে তার সরকার। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় দ্বিতীয় সাউথ এশিয়া মেরিটাইম অ্যান্ড লজিসটিক ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে বাংলাদেশের নৌ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ভারতের গেটওয়ে মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড ও শ্রীলঙ্কার কলম্বো ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম কনফারেন্স ইভেন্টসের সহযোগিতায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোর নাব্য সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য নদী খননের উদ্যোগ গ্রহণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া নৌরুটগুলো পুনরায় চালুর জন্য ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বাংলাদেশের জন্য একটি আধুনিক, দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন খাতে যথাযথ কর্মপন্থা গ্রহণ করব। আমাদের কর্মকৌশল হবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এটাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ অঞ্চল। এর শতকরা ৮০ ভাগ নদ-নদী, প্লাবন ভূমি। যার ওপর নির্ভরশীল দেশের বেশির ভাগ মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতি। এই বদ্বীপেরও কিছু প্রতিকূলতা থাকে। সেই প্রতিকূলতার বারবার আমরা সম্মুখীন হচ্ছি। কিন্তু যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট পারদর্শিতা অর্জন করেছে।’ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে ‘ডেল্টা প্লান-২১০০’সহ অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের বদ্বীপটাকে আগামীতে উন্নত করব। কারণ ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই।’

ভারত-মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সমাধান হওয়ার দিকটি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে সমুদ্রসীমা পেয়েছি এবং তাতে যে সম্পদ রয়েছে তা আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য এরই মধ্যে ‘ব্লু ইকোনমি পলিসি’ গ্রহণ করেছি।

নৌপরিবহন খাতে দক্ষিণ এশিয়ায় বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে এই খাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রভূত অবদান রাখা সম্ভব বলে আশাবাদ করেন শেখ হাসিনা।

দ্বিতীয় দক্ষিণ এশিয়া সামুদ্রিক ও লজিস্টিক ফোরাম-২০১৮’তে যেসব সুপারিশ করা হবে তা লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করে ফোরামের সাফল্য কামনা করে উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের সম্মেলনে ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটানসহ এশিয়া ও ইউরোপের ২০টি দেশের নৌ খাতসংশ্লিষ্ট বাণিজ্য ও শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

"