মাওলানা ভাসানীর ৪৮ শিক্ষকের পদত্যাগ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি

ছাত্রলীগ নেতাদের বিচার দাবিতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ৪৮ শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে মাভাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে ৪৮ জনের পদত্যাগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলামের কাছে জমা দেওয়া হয়।

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়াদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, চারজন ডিন, চারজন প্রভোস্ট, ১৪ জন বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সব হাউস টিউটর ও সব সহকারী প্রক্টরসহ ৪৮ শিক্ষক।

এদিকে, গতকাল সোমবার দুপুরে চলমান এ সংকট নিরসনে বৈঠকে বসেছেন শিক্ষক, ছাত্রলীগ নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অভিযোগে জানা যায়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার ফল ঘোষণা হয় গত শনিবার। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এক ছাত্রী অকৃতকার্য হয়েছেন। তার ফলাফল ৪ এর মধ্যে ১.৯৮। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২.২৫ পেলে পরবর্তী সেমিস্টারে উন্নীত হতে পারবে।

এ কারণে ওই ছাত্রীকে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের পক্ষ থেকে গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় কোয়ান্টাম মেকানিক্স-১ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অমান্য করে তাকে তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার। পরীক্ষা চলাকালে ওই ছাত্রলীগ নেতা তার সহযোগীদের নিয়ে জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে পরীক্ষা কেন্দ্রে সিটে বসিয়ে দেন। এতে বাধা দেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. মহিউদ্দিন তাসনিন। এ বাধা দেওয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব তালুকদার দায়িত্বরত শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করাসহ মারধরের চেষ্টা করেন। শেষমেশ নেতাকর্মীদের পাহারায় পরীক্ষা শেষ করেন ওই ছাত্রী।

এখানেই শেষ নয়, পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডেকে অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের আন্দোলন করেন ওই নেতারা। এ সময় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বন্ধও করেন ছাত্রলীগ নেতারা।

এদিকে, শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় বিকেল ৪টায় জরুরি সভা ডাকেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব তালুকদার, সহসভাপতি মো. ইমরান মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল ও সহসভাপতি আদ্রিতা পান্নার বিচারের দাবি জানানো হয়। উপাচার্য বরাবর মাভাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি ও ১৫ জন শিক্ষক স্বাক্ষরিত দুটি আবেদনে ওই চার ছাত্রলীগ নেতার বিচারের দাবি জানানো হয়।

পরে সন্ধ্যা ৭টায় উপাচার্যের কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা ও শিক্ষকদের নিয়ে সভা হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতারা সভা ত্যাগ করে প্রতিটি হল থেকে ছাত্রছাত্রী বের করে অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করেন। এ আন্দোলন রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা পর্যন্ত চলে।

এদিকে, উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে শিক্ষক লাঞ্ছিতের বিচার না পাওয়ার কারণে সব শিক্ষক একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

অপরদিকে আন্দোলনে জোরপূর্বক নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। তাদের দাবি ‘যেতে না চাইলেও তাদের জোর করে আন্দোলনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

আর আন্দোলনে জোরপূর্বক নেওয়ার ঘটনায় শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হলের ছাত্রলীগের নেত্রীদের সঙ্গে সাধারণ ছাত্রীদের হাতাহাতি হয়। ঘটনাটি ছাত্রলীগের নেত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানকে জানান। এতে ক্ষুব্ধ সজীব ও সাইদুর ছাত্রী হলে প্রবেশ করাসহ উপস্থিত ছাত্রীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হলের ছাত্রীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে সভাপতি সজীব ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুরসহ হলের নেত্রীদের ধাওয়া করেন। ছাত্রী হলের এ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাধারণ ছাত্রীদের শান্ত করেন। গতকাল দুপুরে চলমান বৈঠকের কারণে পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, প্রক্টরসহ কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

"