শাশুড়ি হত্যার কথা স্বীকার পুত্রবধূর

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর তানোরে শয়নকক্ষে চাঞ্চল্যকর জোহরা বেগম (৪৫) হত্যারহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে নিহত জোহরার পুত্রবধূ সোনিয়া আক্তার রুমি (২২) ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত রোববার আদালতে রুমির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এ নিয়ে গতকাল সোমবার নিজ দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে জোহরা হত্যার বিস্তারিত জানান রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ।

গত ৩ অক্টোবর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কচুয়া জিতপুর গ্রামের নিজের শয়নকক্ষে খুন হন জোহরা বেগম। পরে পুলিশ গিয়ে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় আহত অবস্থায় জোহরার পুত্রবধূ রুমিকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। রুমির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির বরাদ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসপি শহিদুল্লাহ জানান, ঘটনার দিন শাশুড়ি-পুত্রবধূর ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে বাড়ির আঙিনায় শাশুড়ি তার পুত্রবধূ রুমিকে মারতে যায়। এ সময় রুমি তার শাশুড়িকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে আঘাত করেন। এতে জোহরা মাটিতে পড়ে যান। এরপর তিনি জোহারার মুখে আঘাত করলে নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। পরে টেনেহিঁচড়ে জোহরাকে ঘরে নিয়ে যান রুমি। ঘটনাটি স্বামীকে বলে দেওয়ার ভয়ে চাপাতি দিয়ে জবাই করে জোহরার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। জবাই করার সময় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে রুমির হাতের আঙুল কেটে যায়। এরপর বাইরে গিয়ে রুমি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। তবে তার জ্ঞান হারানোর বিষয়টি ছিল অভিনয়।

এসপি বলেন, ঘটনাস্থলের অবস্থান বিশ্লেষণ করে আগে থেকেই পুত্রবধূর ওপর সন্দেহ হচ্ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুমির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে রোববার তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রুমি জোহরা হত্যার বর্ণনা দেন। এরপর তাকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

প্রায় ২০ বছর আগে জোহরার স্বামী হেলালের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর থেকে জোহরা ছেলে জাহাঙ্গীরকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। ছেলে জাহাঙ্গীরের বিয়ের পর থেকে পুত্রবধূ রুমি ও তাদের মেয়ে জুঁই জোহরার সঙ্গে থাকেন। ছেলে জাহাঙ্গীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ পূবালী ব্যাংকের নাইটগার্ড পদে চাকরি করেন।

"