আওয়ামী লীগে নির্বাচনী উৎসব

উত্তরে ট্রেনযাত্রা পূর্বদক্ষিণে সমাবেশ ঢাকায় গণসংযোগ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

কাইয়ুম আহমেদ

আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে উৎসবে মেতে উঠছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে ট্রেনযাত্রা, পূর্বদক্ষিণের সড়ক ধরে সভা-সমাবেশ এবং সর্বশেষ ঢাকায় গণসংযোগ করে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। পাশাপাশি রয়েছে নানা প্রস্তুতিও। দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, চলতি মাসেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচন ডিসেম্বরে হবে আমি বলবো না, নির্বাচন কমিশন ২৭ জানুয়ারির আগে যে কোনোদিন তফসিল ঘোষণা করতে পারেন। এটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। আপনারা প্রস্তুত হোন, সময় আর বেশি নাই। তাই অক্টোবর মাসে আমরা মনোনয়ন পর্ব শুরু করে দিচ্ছি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলীয় নেতাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থেকে এক ধরনের কোন্দল-সংঘাত দেখা দিয়েছে। সেই কোন্দল নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ দল গঠনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিও চলছে।

নেতারা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে আন্দোলনের নামে নানা ঘটনা ঘটতে পারে। নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আন্দোলনের নামে যে কোনো পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার প্রস্তুতি রয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশ্বস্ত ছেলেমেয়েদের নিয়ে কমিটি গঠনের কথা বলেছি। এরাই হবে ভোটের পাহারাদার। কেউ যদি জাল ভোট বা কারচুপি করতে চায় তাহলে কেন্দ্রভিত্তিক কমিটির সদস্যরা রুখে দাঁড়াবে। এ কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

বিগত তিন মাসে বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর সম্পর্কে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘নেতাকর্মীরা নির্বাচনকে ঘিরে উজ্জীবিত। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি-জামায়াতের চেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের রাজনৈতিক বক্তব্যগুলো তুলে ধরছি। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। আমার একটা নির্বাচনী উৎসবের পরিবেশ তৈরি করছি।

৩০ আগস্ট বিমানে করে সিলেট সফরে যান আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল। ৮ সেপ্টেম্বর ট্রেনযোগে উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে নামেন নেতারা। নীলসাগর এক্সপ্রেসে করে ঢাকা থেকে নীলফামারী যাওয়া প্রতিনিধি দলটি টাঙ্গাইল, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোর, বগুড়ার সান্তাহার, আক্কেলপুর, জয়পুরহাট, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর স্টেশনে পথসভা করে। পথসভায় তৃণমূল নেতাদের মধ্যে বিরোধ দূর করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া ২২ সেপ্টেম্বর সড়ক পথে পূর্বদক্ষিণের কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রাম, ফেনী ও চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পথে কর্ণফুলী, লোহাগড়া, চকরিয়া ও কক্সবাজার ঈদগাহে পথসভা করে একটি প্রতিনিধি দল। সফরে নৌকায় ভোট চাওয়ার পাশাপাশি কোন্দল মেটানোর নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

আর সর্বশেষ সোমবার শুরু হওয়া গণসংযোগ শেষ হয় গতকাল রোববার। রাজধানীর উত্তরার আজমপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আমির কমপ্লেক্স এলাকায় বিকেলে সমাবেশের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ কর্মসূচি শেষ হলো। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এসময় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শোডাউনের নামে বিশৃংখলা করলে মনোনয়ন পাওয়া যাবে না উল্টো নম্বর কাটা যাবে। মনোনয়ন পাওয়া যাবে জনমতের ভিত্তিতে। আপনাদের সবার আমলনামা শেখ হাসিনার কাছে আছে। ক্যাডারের কারণে মনোনয়ন বাতিল হবে। যে নেতা ক্যাডারের কথায় চলেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের জায়গা নেই।

গণসংযোগে তুলে ধরা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অর্জন এবং বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা। গণসংযোগগুলো জনসভায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা শোডাউন করেছেন। শোডাউনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগসহ দলটির অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন। মোটরসাইকেলের শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়াও সেøাগানে সেøাগানে মুখর ছিল গণসংযোগস্থল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের নেতারা যোগাযোগ, প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, পদ্মা সেতু নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রেরণ, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, সমুদ্র সীমানা জয়, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরসহ সরকারের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তারা সাধারণ মানুষের মন জয় করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এ কর্মসূচি চলাকালে কেন্দ্রীয় নেতারা রাজধানীর বিভিন্ন বাণিজ্য বিতান ও কাঁচাবাজারে সাধারণ মানুষের কাছে দলীয় লিফলেট বিতরণ করেন।

আওয়ামী লীগের সপ্তাহব্যাপী এ গণসংযোগে নেতৃত্ব দেন দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা প্রতিদিন চারটি ভাগে ভাগ হয়ে রাজধানীর তিনটি করে মোট ১২টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এরমধ্যে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান এমপির নেতৃত্বে গণসংযোগ কার্যক্রম চালানো হয়। পল্টন, ওয়ারী মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, খিলগাঁও, উত্তরার আজমপুর, আজিমপুর, পুরান ঢাকার চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এই গণসংযোগ করা হয়।

"