ধর্ষণ মামলা ধামাচাপার চেষ্টা রাজশাহীতে ওসি ক্লোজড

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী

ছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টা মামলা চাপা দিতে ছাত্রীর বাবা ও চাচার নামে নাশকতার দুটি মামলা দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কাটাখালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদি হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ বাদী হয়ে নগরীর কাটাখালি থানায় মামলা দুটি করে। অপহরণ ও ধর্ষক চক্রের যোগসাজশে মামলা দুটি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুটি মামলার এজাহারে নাম রয়েছে অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার ছাত্রীর বাবাসহ ১৩ জনের। বিষয়টি জানাজানি হলে রাজশাহী নগর পুলিশে শুরু হয় তোলপাড়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কাটাখালি থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদি হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে মামলার বাদী ওই থানার এসআই (নিরস্ত্র) আবদুল হাকিম সরকার এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আর নগরীর উপকণ্ঠ মহানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম ইনিস্টিটিউটের অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনের যোগসাজশে মামলা দুটি দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি নিজ অফিস কক্ষেই এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে অধ্যক্ষ রিপন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন থেকেই শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভে নামে এলাকাবাসী। এরপর একে একে অধ্যক্ষের কুকর্ম ফাঁস হতে শুরু করে। এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রীসহ আরো দুই ছাত্রী এবং এক শিক্ষিকা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ দেন। এ ছাড়া আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরাও।

পরে অপহরণ ও ধষর্ণচেষ্টার অভিযোগে এক মাস পর ৮ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ওই প্রতিষ্ঠানেরই এক ছাত্রী। ওইদিনই জেলার পবা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পর দিন ৯ মার্চ তাকে জেলহাজতে পাঠায়। এরপর ১৩ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভায় অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ভিকটিমের বাবা জানিয়েছেন, জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকেই অধ্যক্ষ মামলা তুলে নিতে তাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি জটিল মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত নাশকতার দুটি মামলায় তাদের নাম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ন্যায় বিচার দাবি করেন ওই ছাত্রীর বাবা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাটাখালি থানার এসআই (নিরস্ত্র) আবদুল হাকিম সরকার বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে মামলা দুটি নথিভুক্ত হয়। মামলার নম্বর ১০ ও ১১। মামলা দুটিরই তদন্তভার দেওয়া হয়েছে থানার আরেক উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলামকে।

দুটি মামলার এজাহার অভিন্ন। দুটি মামলাতেই ওই ছাত্রীর বাবাকে ৬ নম্বর এবং চাচাকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিরাও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। তবে আসামিরা একেবারেই সাধারণ মানুষ বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মামলা সাক্ষী বেলঘরিয়া মধ্যপাড়ার আবদল আজিজের ছেলে রানাউল ইসলাম টোটন বলেন, এজাহারে বর্ণিত এমন ঘটনা সেদিন ঘটেনি। আসামিদের কাউকে তিনি চেনেন না বলেও দাবি করেন।

এ বিষয়ে কাটাখালি পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, কাপাসিয়া মৃধাপাড়া মোড়ে ওই ছাত্রীর বাবার মুদিখানার দোকান রয়েছে। একেবারেই সাদাসিদে জীবনযাপন করেন তিনি। অতীতে তার এবং তার পরিবারের নামে নাশকতার কোনো অভিযোগ নেই। বানোয়াট মামলায় তাদের ফাঁসানো হয়েছে।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী এসআই আবদুুল হাকিম সরকার গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি। তবে থানার ওসি মেহেদি হাসান দাবি করেছেন, এমন ঘটনা ঘটেছে বলেই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কিন্তু ওই ছাত্রীর বাবা ও চাচার নাম এজাহারে কীভাবে এলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম রোবরার বিকেলে বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণেই ওসি মেহেদি হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

"