ঢাবিতে খুদে গবেষকরা : সুন্দর সমাজ গড়ার অঙ্গীকার

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মাজহারুল ইসলাম রবিন, ঢাবি
ama ami

তারা খুদে গবেষক। দেশের বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনা করছেন তারা। চিন্তা করছেন চলমান জীবনে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ও সমস্যা নিয়ে। প্রশ্নপত্র কেন ফাঁস হয় কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বের করছেন নিজস্ব চিন্তার মাধ্যমে। প্রশ্ন করছেন আরোপিত ব্যবস্থাকে। তাদের অঙ্গীকার আরো সুন্দর সমাজ গড়ার। স্কুল পর্যায়েই তারা শুরু করেছেন গবেষণা। বিকশিত করছেন নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তি। তাদের চিন্তার জগতকে বিকশিত করতে সহয়তা করছে স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চিন্তার চাষ’।

সৃজনশীল প্রজন্ম বিনির্মাণে অভিজ্ঞ প্রবীণ ও সদা আন্দোলিত তারুণ্যের এক মিলিত প্রয়াসের নাম চিন্তার চাষ। উদ্দেশ্য, দ্রুত ধাবমান এই প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মর্যাদাশীল জাতি গঠন। সংগঠনটি নতুন কিছু সৃষ্টিকেই শুধু উদ্বুদ্ধ করে না বরং তা সভ্যতার কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেয়াকেও সমান গুরুত্ব দেয়।

নিজের মতো করে উন্নয়নের জন্য প্রথমে প্রয়োজন চিন্তার জগতে পরিবর্তন। এ পরিবর্তন আনয়নের লক্ষ্যে গবেষণার সঙ্গে এসব শিশুদের পরিচিত করছে সংগঠনটি। পরিবর্তন শুরু হয়েছে স্কুল থেকেই। এ থেকেই যাত্রা হয়েছে নতুন একটি শুরু ও সূচনা। এটি নতুন কিছু উপহার দেবে এই প্রত্যাশা রেখে এসব গবেষণা। চিন্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম আড়ষ্ট থাকে শিশুরা। এই শিশুদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ও সৃজনশীলতা লালনের লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে ‘চিন্তার চাষ’ সংগঠনটি আয়োজন করে ‘খুদে গবেষক সম্মেলন’। ২০১৬ সালে ১ম খুদে গবেষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর তৃতীয় খুদে গবেষক সম্মেলন আয়োজিত হয়।স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘পথচলা আলোর সঙ্গে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনসহ তিনটি কেন্দ্রে ‘তৃতীয় জাতীয় খুদে গবেষক সম্মেলন-২০১৮’ এর আয়োজন করে সংগঠনটি। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৩০টি স্কুলের ৭ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং দেশসেরা ৩০টি গবেষণাপত্র ও ১৫টি ধারণাপত্র উপস্থাপিত হয়। এবারের সম্মেলনে শিক্ষা ও বিজ্ঞান, প্রকৃতি ও পরিবেশ, অর্থনীতি, সামাজিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও জীবনধারা প্রভৃতি বিষয়ের ওপর উদ্ভাবনীমূলক গবেষণা কর্ম উপস্থাপনা করা হয়।

সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন, ধারণাপত্র উপস্থাপন এবং পোস্টার প্রদর্শন নিয়ে মোট তিনটি ইভেন্ট ছিল। এখানে একক ও দলীয় নিয়ে ছিল দুই ধরনের অংশগ্রহণ। দলীয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ধারণাপত্রের জন্য তিনজনের অধিক নয়, তবে গবেষণা পত্রের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নেয়ার সুযোগ ছিল। প্রাথমিক বাছাইয়ে গবেষণাপত্র বা ধারণাপত্র থেকে প্রদর্শনীর জন্য পোস্টার নির্ধারণ করা হয়। দেশের খ্যাতিমান গবেষক ও বিজ্ঞানীগণ গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টারগুলো মূল্যায়ন করেন। এতে তিন চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপসহ সেরা ছয়জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

এর আগে সকালে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এর উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক উজ জামান, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিনা খান, চিন্তার চাষ সংগঠনের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, গবেষণা কীভাবে করতে হয় তার একটা ভিত্তি এ বয়সেই তোমরা পেয়েছ। এজন্য চিন্তার চাষ সংগঠনটি প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, বর্তমানে জ্ঞান নির্ভর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে পৃথিবী সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। যে যত বেশি বুদ্ধি দিয়ে কাজ করবে, সে তত বেশি দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। এ দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে অনেক বেশি আবিষ্কার করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের জন্য উৎসাহ প্রদান করে উপাচার্য বলেন, উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটে চিন্তার মধ্য দিয়ে। একটি ভালো চিন্তা সবকিছুকে পরিবর্তন করে দিতে পারে।

"