স্বামীর নির্যাতনের বিচার চান সাংবাদিক নুরজাহান

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের বড়াইগ্রামের সাংবাদিক নুরজাহান বেগম তার স্বামীর নির্যাতনের উপযুক্ত বিচার চান। তিনি স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে থানায় মামলা করেছেন এবং গতকাল বুধবার উপজেলার বনপাড়ার স্থানীয় প্রেস ক্লাবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। নুরজাহান অনলাইন পত্রিকা নয়াবর্তার বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি। তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন তার স্বামী অর্থলোভী ও জুয়ারু।

সাংবাদিক সম্মেলনে নুরজাহান তার লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার বিয়ে হয় গোপালপুর গ্রামের আবদুল আওয়ালের সঙ্গে। বিয়ের সময় দেনমোহর ধার্য করা হয় ৫ লাখ টাকা। বিয়ের আগে থেকেই স্বামী

আবদুল আওয়াল পর নারী ও জুয়া খেলায় আসক্তি ছিল এবং তা বিয়ের পরও চলমান রাখে। এসব কাজে বাধা দিলে আওয়াল আরো বেপোরোয়া হয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে যৌতুকের দাবি তুলে তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে। অত্যাচার সইতে না পেরে তিনি ওই সময় গ্রামীণ ব্যাংক (এনজিও) থেকে ২ লাখ টাকা উঠিয়ে স্বামীকে দেন। সেই টাকা আওয়াল জুয়া আর নারীদের পেছনে শেষ করে এবং টাকার জন্য পুনরায় তাকে চাপ দিতে থাকেন। টাকা না দিলে আবারও শুরু হয় নির্যাতন। পরবর্তীতে অত্যাচার সইতে না পেরে তিনি নাটোর কোর্টে মামলা করেন এবং সেই মামলায় আওয়াল ২২ দিন কারাভোগ করেন। এ সময় আর কখনো নির্যাতন না করার মুসলেকা আদালতে জমা দিয়ে আওয়াল পুনরায় সংসার জীবন শুরু করে। তবে ওই নতুন সংসার শুরু করার আগে নতুন করে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে আবারও দুইজনে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিছু দিন সংসার ভালো চলার পর এ বছর মার্চ মাস থেকে আবারও শুরু হয় আওয়ালের জুয়া খেলা। একই সঙ্গে আবারও টাকার দাবিতে চলে নির্যাতন। দীর্ঘদিন অত্যাচার চালাতে থাকলে তা সইতে না পেরে তিনি পুনরায় পিসিডি (এনজিও) থেকে ১ লাখ টাকা উঠিয়ে স্বামীকে দেন। সেই টাকাগুলোও স্বামী আওয়াল একইভাবে শেষ করে আবারও তাকে অত্যাচার শুরু করে। পরিশেষে আর কোনো উপায়ন্তর না দেখে তিনি ১৫ সেপ্টেম্বর স্বামীর বিরুদ্ধে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেন।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীলিপ কুমার দাস এ ব্যাপারে জানান, সাংবাদিক নুরজাহান থানায় মামলা করেছেন এবং মামলার তদন্তের ভার এসআই মামুনের ওপর দেওয়া হয়েছে। মামলা তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"