ব্যস্ত দুবাইয়ে নীরব এশিয়া কাপ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ক্রীড়া প্রতিবেদক, দুবাই থেকে

পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত শহরগুলোর একটি দুবাই। সাঁই সাঁই করে অবিরাম ছুটে চলছে রঙ বেরঙের যান। রাজপথের ন্যায়, ফুটপাতেরও দম ফেলার সুযোগ নেই। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষ জীবিকা নির্বাহের তাগিতেই দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে যে এশিয়া কাপের মতো বড় একটা টুর্নামেন্ট চলছে সেটা নিয়ে মাথাব্যথা নেই কারোরই। অনেকে তো জানেনই না খবরটা!

এখানকার বাংলাদেশের প্রবাসীরা অবশ্য উচ্ছ্বাসটা চাপা রাখছেন না। উদ্বোধনী ম্যাচের জয়োচ্ছ্বাস করেছেন; নিয়মিতই খোঁজখবর নিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টাইগারদের বিশাল জয়ের সাক্ষী হয়েছেন। অপেক্ষার প্রহর গুনছেন পরের ম্যাচের। আবুধাবি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের টিকিটও খোঁজা শুরু করে দিয়েছেন এখানকার বাংলাদেশি সমর্থকরা।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রচ- দাবদাহ নতুন কিছু নয়। এখানকার মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হচ্ছে সম্প্রতি দুবাইতে গরম অনেক কমেছে। তাও আবার গত চার দিনে দুবাইর গড় তাপমাত্রা ছিল ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস! এই সময়টা এখানে বসবাসরত মানুষদের জন্য বসন্তকাল। আসন্ন শীতের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে মরুর দেশে। এই তাপমাত্রা বাংলাদেশে থাকলে নাভিঃশ্বাস উঠে যেত নিশ্চিত!

দিন-রাত সবসময়ই জমজমাট দুবাই শহর। মাগদুম নদী ঘেরা শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত, কী নেই এখানে। চোখে প্রশান্তি এনে দেওয়ার মতো অনেক স্থাপনা, সমুদ্রসৈকত আরো কত কী! পর্যটন নগরী ও তেল-গ্যাসের খনির জন্য বিখ্যাত সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্য উন্নত দেশগুলোর মতোই নিয়ম-কানুনে বেশ কঠোর। খনিজ সম্পদের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে বিধায় অর্থনৈতিক খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন খাতে আরোপ করা হচ্ছে কর।

জীবন এবং জীবিকা যেখানে মুখ্য সেখানে খেলাধুলা গৌন একটা ব্যাপার। স্বাভাবিকভাবেই তাই এখানে ক্রিকেটের আবেদন নেই বললেই চলে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মানুষের মধ্যেই যা কম-বেশি উত্তেজনা কাজ করছে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে এশিয়া কাপ নিয়ে তাদেরই বা পড়ে থাকার সময় কই!

প্রায় পুরো শহরের রাজপথ, অলিগলি অনেকটাই বেরিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু এশিয়া কাপ নিয়ে মাতামাতি নেই খোদ স্বাগতিক দেশ আরব আরিরাতের মানুষজনেরই! অধিকাংশ মানুষ তো জানেনই না যে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্যাট-বলের যুদ্ধ হচ্ছে দুবাই ও আবুধাবি স্টেডিয়ামে। কোলাহলের শহরে অনেকটা নীরবে চলছে ব্যাট-বলের রোমাঞ্চকর এই যুদ্ধ।

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রচার প্রচারণাও খুব একটা চোখে পড়ার মতো নয়। দুবাই শহরের মধ্যে স্পোর্টস সিটি এলাকাতেই দু’একটা তোরণ দেখা গেছে এশিয়া কাপের। সেটাও ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রবেশমুখে। এছাড়া ফেস্টিভ্যাল সিটি এলাকার অভিজাত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (অংশ নেওয়া দলগুলোর টিম হোটেল) এশিয়া কাপের কিছুটা বাতাস বইছে। হয়তো এশিয়ার নামি-দামি খেলোয়াড়রা আছেন বলেই কেউ কেউ একটু আধটা জানতে চাচ্ছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়েছে। মাশরাফি, সাকিবদের এই উন্নতিতে মুগ্ধ এখানকার পাকিস্তানি, ভারতীয়, আফগানরা। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কাকে টাইগাররা যেভাবে হারিয়েছে তাতে করে তাদের বিস্ময় আকাশ ছুঁয়েছে।

বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা হেরে যাওয়ায় সুপার ফোর নিশ্চিত হয়ে গেছে দুই দলের। লড়াইটা এখন তাই গ্রুপ শীর্ষ হওয়ার। তবে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি প্রতিশোধেরও। দেরাদুনে আফগানাদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নাস্তানাবুদ হওয়াটা পুষিয়ে দেওয়ার জন্য মাঠে নামবে মাশরাফি-মুশফিকরা।

"