পূর্বাচলে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের আলমপুরা এলাকার ৯নং সেক্টরের ১১নং ব্রিজের নিচ থেকে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। পরস্পর যোগসাজশে হত্যা করে গুম করার অপরাধে রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সফিউদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে গতকাল শনিবার দুপুরে মামলাটি করেন। বাদী সফিউদ্দিন মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি স্পেশাল ৫ ডিউটি করার সময় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লোকমুখে জানতে পারেন পূর্বাচল উপশহরের আলমপুরা এলাকার ৯নং সেক্টরের ১১নং ব্রিজের নিচে পাকা করিডরের ওপর তিনটি অজ্ঞাতনামা পরিচয় পুরুষের লাশ পড়ে আছে। পরে আরো পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান ওই তিনটি লাশ মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে লাশগুলো ওলট-পালট করে দেখা যায়, ওই তিনটি লাশের বুকের বাম পাশে, বুকের পাঁজরে, কনুয়েই ওপরে, পিঠে ঘাড়ের নিচে, পিঠের ডান পাশের কোমরের ওপর, বাম পায়ের রানের হাঁটুর ওপর, বুকের মাঝখানে, মাথার ডান পাশে, পিঠে, মাথার ডান পাশের কপালে, মাথার পেছনের মাঝ বরাবর গুলির জখম পরিলক্ষিত পাওয়া যায়। তিনজনের মধ্যে একজনের প্যান্টের পকেট থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে প্রথম অবস্থায় এলাকার লোকজন তাদের চিনতে না পারায় ফেসবুক, ইমো ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

এরই মধ্যে ওই তিনজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়। মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ধারণা করা হচ্ছে গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে বা ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে হত্যা করে লাশ গুম করে ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে ৩০২/২০১/৩৪ ধারা অপরাধ করেছে। ঘটনার পর মৃতদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতসহ ময়নাতদন্তের জন্য কার্যসম্পাদন করা হয়, কিন্তু মৃতদের পক্ষে কেউ কোনো অভিযোগ না করায় ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এসআই সফিউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, নিহত সোহাগের বিরুদ্ধে বনানী থানায় একটি হত্যা মামলাসহ চারটি মাদক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া শিমুল আজাদ ও নূর হোসেন বাবুর বিরুদ্ধেও মাদকসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা কেন দায়ের করা হয়নি? এমন বিষয়ে জানতে শিমুল আজাদের স্ত্রী আয়শা আক্তার নিপার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন চলছে।

"