নিরাপত্তাহীনতায় শার্শার একটি খ্রিস্টান পরিবার

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী গিলাপোল গ্রামে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি পরিবার। ইতোপূর্বে চাঁদা দাবিতে তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনার হোতা ছিলেন ইউপি সদস্য ও শার্শা উপজেলা যুবলীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মিলন ও তার বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর ও সাতক্ষীরা থেকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ও সাউথ এশিয়ান ক্রাইম ওয়াচের একটি প্রতিনিধি দল নির্যাতিত সলমন দাসের বাড়ি পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেন।

জানা গেছে, নিরাপত্তাহীনতায় সলমনের পরিবারের কলেজগামী ছাত্রী কন্ডোলিজা শিলার কলেজ যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে পরিবারের অন্য সদস্যরাও জিম্মি হয়ে পড়েছেন। হামলার ঘটনায় ১৭ জনকে আসামি করে শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ ৮ জনকে আটক করলেও পরদিনই তারা জামিনে বেরিয়ে আসে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় চেয়ারম্যান আইনাল হক ও ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম মিলন উভয়ই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের সমর্থক। তবে উভয়ের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রয়েছে। আর সলমন দাস চেয়ারম্যানের সমর্থক। এই দ্বন্দ্বের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পরিবারটির ওপর ফের হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে সলমন দাস মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই সমির কুমার হোরকে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি। মোটরসাইকেলে চড়ে ৮-১০ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী তার বাড়ির চারপাশে ঘোরাফেরা করছে।

এলাকার লোকজন জানান, ২০০৮ সাল থেকে মিলন মেম্বর উলাশী গ্রামে ৭০-৮০ বিঘা জমির ওপর নীলকুঠি নামে একটি পার্ক তৈরি করে। ৩৩ জন গ্রামবাসীর ৩৫ বিঘা জমি আত্মসাৎ করে ওই পার্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া উলাশী বাজারে জিয়া মঞ্চের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিউর রহমান জানান, বিষয়টি স্পর্শকাতর। পুলিশি টহল রয়েছে। আর কোনো ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই।

"