শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে জাবির ভূগোল বিভাগে ‘স্থবিরতা’

সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে শিক্ষকদের ‘অঘোষিত’ ধর্মঘটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে বিভাগটির একাডেমিক কার্যক্রম। বিভাগীয় সভাপতি ও শিক্ষকদের একটি প্রভাবশালী গ্রুপের দ্বন্দ্বে জিম্মি হয়ে সেশনজটের শঙ্কায় রয়েছেন বিভাগের ৩৫০ শিক্ষার্থী। ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হলেও ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি ক্লাস ছাড়া কোনো ক্লাস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এমনকি ঝুলে রয়েছে বিভাগের ৪২ ব্যাচের স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষা। বন্ধ রয়েছে বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের ক্লাস পরীক্ষাও। জানা যায়, অধ্যাপক মো. মনজুরুল হাসান এ বছরের ২৬ জুলাই আদালতের নির্দেশনায় বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে অন্তত একটি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা। কিন্তু সভাপতির

দায়িত্ব নেয়ার পরে অধ্যাপক মনজুরুল এখনো কোনো সভা ডাকেনি। আর এই অভিযোগে ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক। তবে সভাপতির বক্তব্য, আমার দায়িত্ব বুঝে নিতে একটু সময় লাগছে। তাই যৌক্তিক সময়ে আমি এ সভা আহ্বান করব। কিন্তু বিভাগের শিক্ষকরা তাদের দাবিতে অনড় অবস্থানের রয়েছেন। ফলে শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন বিভাগে গিয়ে ক্লাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এমনকি শিক্ষকদের প্রভাবে তারাও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

বিভাগীয় শিক্ষকদের অভিযোগ, অধ্যাপক মনজুুরুল হাসানকে বিভাগ থেকে দীর্ঘ দিন সরিয়ে রাখার পর তিনিই আবার হাইকোর্টের নির্দেশে সভাপতির দায়িত্বে এসেছেন। তাই তিনি বিভাগীয় শিক্ষকদের ওপর প্রতিশোধ পরায়ণ আচরণ শুরু করে একাডেমি সভা ডাকছেন না। বিভাগের শিক্ষকদের নতুনভাবে কোর্স বণ্টন করাও সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ২০১৮-১৯ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে।

এদিকে গত সোমবার বিভাগের ২০ শিক্ষক একাডেমিক কমিটির সাধারণ সভা ডাকার জন্য লিখিত অনুরোধ জানিয়েছেন। এসব বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মনজুরুল হাসান বলেন, ‘যারা সারা বছর ক্লাস-পরীক্ষা নেয় না, তারাই ক্লাস নিচ্ছেন না। বিভাগের ৭ জন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারও ক্লাস নিচ্ছেন। ক্লাস-পরীক্ষা নেবে না বলে তারা (আন্দোলনকারী শিক্ষকরা) আমাকে লিখিতভাবে জানায়নি। তারা অঘোষিত ধর্মঘট পালন করছে। তারা ঘোষণা দিক যে, তারা ক্লাস নেবেন না। তা তো করছেন না। আন্দোলনকারীদের একজন সভাপতি থাকাকালীন ৯ মাস একাডেমিক সভা ডাকেননি। তারপরও তো বিভাগ চলেছে। বিভাগের একজন সিনিয়র শিক্ষক ট্যুরে না গিয়েও বিল করেছেন, আমি একমাত্র সেই ফাইলটাই সাইন করিনি। তাছাড়া সবই তো ঠিক আছে। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে যদি শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা না নেন তবে সেটা হবে অমানবিক।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তো বলিনি একাডেমিক সভা ডাকব না। আমি বিভাগের সব কিছু বুঝে যৌক্তিক সময়ে একাডেমিক সভা আহ্বান করব। সেটা ১৫ দিন পরও হতে পারে, এক মাস পরও হতে পারে।’ এ বিষয়ে জানার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

"