এক মাসে শিশুসহ ৪ নারী খুন : রাজবাড়ীতে আতঙ্ক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীতে গত আগস্ট মাসে সদর উপজেলার পাশাপাশি ৩টি ইউয়িনে ১৪ দিনের ব্যবধানে শিশুসহ ৪ নারীকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। প্রথম জোড়া খুনের কুলকিনারা হয়নি এখনো চারজনকেই একই রকমভাবে গলা কেটে হত্যা করায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে রাজবাড়ীর মানুষ। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও কেউ দায় স্বীকার না করায় এখনো পর্যন্ত হত্যাগুলোর কারণ উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। নানা ধরনের গুজবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে রাজবাড়ীবাসী। তবে পুলিশ বলেছেন আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। খুনিরা শিগগিরই ধরা পরবে। গত ২ আগস্ট দিনগত রাতে সদর উপজেলার মুলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মুলঘর গ্রামে ৪৫ বছর বয়সী শাহিদা বেগম এবং তার ৭ বছর বয়সী নাতনি লামিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার ৫ দিন পর ৭ আগস্ট রাতে বানিবহ ইউনিয়নের আটদাপুনিয়া গ্রামে নিজ বসতঘরে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ আদুরী আক্তার লিমাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সবশেষে ১৬ আগস্ট রাতে একই আলিপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামে মধ্যবয়সী নারী হাজেরা বেগমকে একই কায়দায় গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। প্রতিটি হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ সন্দেহজনকভাবে কয়েকজনকে গ্রেফতারে পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে কারাগারে পাঠালেও হত্যার দায় কেউ স্বীকার করেনি। ফলে এখনো পর্যন্ত হত্যাগুলোর কারণ উদ্ঘাটন হয়নি। এদিকে এসব ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় গুজব রটেছে ‘পদ্মা সেতুর জন্য রক্ত লাগবে’ এ কারণে ঘটছে একের পর এক হত্যাকান্ড। ফলে আতঙ্কিত হয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন শত শত পরিবার। কেউ কেউ নিজ বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। আতঙ্কে বেশ কয়েক দিন এলাকায় রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে প্রশাসনের নির্দেশে বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। নিহত হাজেরা বেগমের স্বামী তমিজ উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাতের খাবার ও টেলিভিশন দেখার পর হাজেরা বেগম পুত্রবধূ স্বপ্নার সঙ্গে এক ঘরে ঘুমাতে যায়। রাত ১২টার দিকে স্বপ্নার চিৎকারে এগিয়ে গেলে দেখা যায় বিছানার ওপরে হাজেরার গলা কাটা লাশ ও স্বপ্নার দুই হাতে জখম। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। কেন এমন ঘটনা ঘটল সে বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে পুত্রবধূ ঘটনার সময় পাশেই ছিল সে বলছে কিছুই জানে না। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে গেছে। আর জনগণকে গুজবে বিশ্বাস না করার ও আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী।

আলীপুর ইউনিয়নের আলীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঘরে ঢুকে পরপর গলা কেটে খুনের ঘটনা ঘটানোর কারণে আমার ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না। সবার মধ্যে একটি ভয় কাজ করছে। আমরা এই ভয়ের মধ্যে থাকতে চাই না। এ কাজ যারা করছে তাদেরে ধরে আইনের আওতায় আনা হোক।

জেলা পরিষদের অন্যতম সদস্য মো. নাজমুল হাসান মিন্টু বলেন, প্রথম মুলঘর, বানিবহ ও আলীপুর ইউনিয়নে চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এমন খুনের ঘটনায় রাজবাড়ীবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ এমন ঘটানার কারণে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। আমরা জনপ্রতিনিধি আমাদের কাছে মানুষ জবাব চায় এমন ঘটনা কেন ঘটছে। তিনি বলেন আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসল খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে। এ চারটি হত্যাকান্ডের কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন জেলা পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি। তিনি দাবি করেছেন এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক কেটে যাচ্ছে। তিনি মানুষকে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

"