দেশে বাড়ছে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বিবিসি বাংলা

২০১৮ সালে বাংলাদেশে নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হতে পারে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৮১ জন। আক্রান্ত তালিকায় মুখের ক্যানসার, ফুসফস, ব্রেস্ট, জরায়ুমুখের মতো ক্যানসার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষদের সংখ্যা যেখানে ৮২ হাজার ৭১৫ জন, নারীদের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৬৬ জন। বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ। সেখানে নারীদের মৃত্যুর শীর্ষে রয়েছে স্তন ক্যানসার। এরপরেই রয়েছে জরায়ুমুখ এবং গল ব্লাডারের ক্যানসার। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (আইএআরসি) এর একটি প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। আইএআরসির হিসাবে, ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে মোট ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হবে, যাদের মধ্যে ৯৬ লাখ মানুষ মারা যাবে। বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ২০১২ সালের তুলনায় ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বিশ্বে আরো বাড়বে। দারিদ্র্য নয়, বরং জীবনযাপন মানের কারণে এটি ঘটছে। আইএআরসি বলছে, প্রতি পাঁচজন পুরুষের মধ্যে একজন আর প্রতি ছয়জন নারীর মধ্যে একজন ক্যানসারে আক্রান্ত হবে। এ বছর বিশ্বে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর অর্ধেকই ঘটবে এশিয়ার দেশগুলোয়। বাংলাদেশের জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাবিবুল্লাহ তালুকদার (রাসকিন) বলেন, তুলনামূলকভাবে এখনো বাংলাদেশে ক্যানসার আক্রান্তদের হিসাবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের হার কিছুটা কম। তবে এখন নারীদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়ছে। সর্বশেষ এই গবেষণা বলছে, বিশ্বের অন্তত ২৮টি দেশে ক্যানসার আক্রান্ত নারীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ফুসফুসের ক্যানসার। বিশ্বব্যাপী মেয়েদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ার কারণে মেয়েদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হারও বাড়ছে। বিশেষ করে ইউএসএ, হাঙ্গেরি, ডেনমার্ক, চীন এবং নিউজিল্যান্ডসহ ২৮টি দেশে এই প্রবণতা দেখা গেছে। ড. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, ‘নারীদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার হার বৃদ্ধির একটি বড় কারণ তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন। এখন মেয়েরা অনেক বেশি পথেঘাটে বের হচ্ছেন, কর্মজীবী হচ্ছেন অনেকেই সিগারেট বা মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। তারা এখন অনেক বেশি পথেঘাটে ধোঁয়াধুলার মধ্যে কাজ করছেন। বাচ্চাকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, অনিয়মিত খাবার বা ফ্যাটি খাবার খাওয়াও ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা সবাই ধূমপান না করলেও, নারীদের বড় একটি অংশ পানের সঙ্গে জর্দা, সাদাপাতা বা এ ধরনের তামাকজাত খেয়ে থাকেন। সেটাও কিন্তু ক্যানসারের কারণ হতে পারে।’

‘একসময় মেয়েদের জরায়ুমুখের ক্যানসার বেশি হলেও এখন স্তন ক্যানসার বেশি হচ্ছে। মুখ গহ্বরের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হারও বাড়ছে।’

ক্যানসারের লক্ষণগুলো ধরতে না পারা বা সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া বাংলাদেশে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বড় কারণ। ড. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, অনেক সময় লক্ষণগুলো দেখা দিলেও সেটা অবহেলা করে চিকিৎসকের কাছে আমরা যাই না বা নিজেরাই কোনো ওষুধ খেয়ে ফেলি। পরে যখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। ফলে ওজন কমে যাওয়া, দুই সপ্তাহের বেশি খুসখুসে কাশি, পায়খানা বা মাসিকের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, হঠাৎ গলা ভেঙে যাওয়া, মাঝে মাঝে জ্বর আসা ইত্যাদি হলেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এসব অন্য কারণেও হতে পারে। কিন্তু ক্যানসার হলে প্রথমদিকেই ধরা পড়বে এবং চিকিৎসা পাওয়া যাবে।

তালুকদার আরো বলেন, বাংলাদেশে এখন সব ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসা রয়েছে। হরমোন থেরাপি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি থেকে শুরু করে সব ধরনের ওষুধও পাওয়া যায়।

তবে এসব সেবার বেশিরভাগই ঢাকা কেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে কয়েকটি মেডিকেল কলেজে সীমিত আকারে চিকিৎসা হয়। তবে আগের তুলনায় ক্যানসারের ক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে বলে তিনি জানান।

"