তথ্য প্রদানের অনীহা কুবি কর্মকর্তাদের

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

কুবি প্রতিনিধি

তথ্য প্রাপ্তি সংবিধানের মৌলিক অধিকার। নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ নামে নির্দিষ্ট আইন প্রণীত রয়েছে। তবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা সেই অধিকার ক্ষুণœ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের মৌলিক তথ্য চাইলেও তা প্রদানে অনীহা দেখান প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকতারা। তথ্য প্রকাশে কর্মকর্তাদের এমন অনীহা এবং অসহযোগিতা সংশ্লিষ্ট কাজে অস্বচ্ছতার ইঙ্গিত বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা মৌলিক তথ্য প্রদানে অসহযোগিতা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি অভিযোগ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারণ প্রকল্পের দরপত্র প্রকাশের তারিখ, প্রকল্প ব্যয়, প্রকল্পটি শেষ হওয়ার সময়সীমাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের সহকারী পরিচালক ড. মো. শাহাবুদ্দীন এবং অর্থ ও হিসাব দফতরের সহকারী পরিচালক মো. নাছির উদ্দিনের কাছে যান তিনি। কিন্তু তারা বিভিন্ন অজুহাতে তথ্য প্রদানে অসহযোগিতা করেছেন। কোনো তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের অনুমতি লাগবে বলে এড়িয়ে যান।

সাংবাদিকদের চাহিদা অনুযায়ী, তথ্য না দেওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত স্বভাবে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা।

তথ্য প্রদানে অনীহা দুরভিসন্ধিমূলক এবং কোনো অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার জন্য হতে পারে মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিক’র (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ছাড়া সব তথ্য দিতেই বাধ্য তারা। তারা তথ্য না দিলে প্রতিবাদ করতে হবে এবং আইনের আশ্রয় নিতে হবে। এটা আইনি অধিকার।’ তথ্য প্রাপ্তিতে এমন অসহযোগিতা পেলে তিনি ও তার সংগঠন সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি। বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘তারা তথ্য দিবে না এমন স্বেচ্ছাচারিতা চলতে পারে না। এমন হলে মামলা করা যায়।’ সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার বিষয়ে প্রতিবন্ধকতা তো নতুন নয় মন্তব্য করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘নিজের স্বার্থে নয় সাংবাদিকরা জনগণের স্বার্থে কাজ করে থাকেন। তথ্য প্রাপ্তি হলো অধিকার।’

সাংবাদিকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘বিশ^বিদ্যালয়ে কতটুকু কাজ হচ্ছে, কি রড দিয়ে কাজ হচ্ছে প্রভৃতি সম্পর্কে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট দেওয়া যায় না।’ বিশ্ববিদ্যালযের আইনে ‘এসব তথ্য দেওয়া যাবে না’ এমন কথা উল্লেখ আছে কি না তার জবাবে ড. তাহের বলেন, ‘এসব বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের আইনে উল্লেখ থাকে না, এগুলো বিশ^বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকৌশল।’

"