নোয়াখালীর বেদেপল্লীতে হামলা ও তান্ডবে আতঙ্ক

প্রকাশ | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নোয়াখালী প্রতিনিধি

মৃত্যুর গুজবে নোয়াখালী সদরে বেদেপল্লীতে তান্ডবের পর ওই সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামলায় সহায়-সম্বলহীন হয়ে পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভয়ে কেউ কেউ অন্য স্থানে চলে যাচ্ছে পরিবার-পরিজন নিয়ে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে বেদেপল্লীতে এ হামলা হয়। ওইদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, বেদেপল্লীতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেদে সর্দার জাকের হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে স্থানীয় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো ২০০ জনকে আসামি করা হয়। অপর মামলাটি করেন স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন বাহার। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন কিশোর তারেক আজিজের বাবা। এ মামলার এজাহারে বেদেদের ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনার রাতেই অভিযান চালিয়ে হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, গত শুক্রবার বেদেপল্লীর এক কিশোরী স্থানীয় দোকানে আইসক্রিম কিনতে গেলে দোকানি তাকে অশালীন মন্তব্য করে। এ নিয়ে বেদেদের সঙ্গে দোকানি ও এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। এ সময় চা দোকানের গরম তেলে তারেক আজিজ (১৭) নামে স্থানীয় এক কিশোরের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গত সোমবার এলাকায় তারেকের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী বেদেপল্লীতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। বেদে সর্দার মো. ওয়াসিম অভিযোগ করেন, তাদের ৩২টি টিনের ঘর, ১০টি তাঁবু ও ২৫টি খুপরি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ ছাড়া ১১টি ঘর ও ১১০টি সাপ পুড়ে যায়। হামলায় আহত হয় ছয় বেদে। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে বেদে পরিবারগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে অনেক পরিবার মালামাল নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে বাস করছে।’

সদর-সুবর্ণচর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ঘটনায় জড়িতদের শান্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও গৃহ নির্মাণে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের জন্য কোনো বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ঘটনার পর পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামে স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মমিনুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে তৎপর রয়েছে পুলিশ। স্থানীয় লোকজন এবং বেদেদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য বিভিন্ন পক্ষ কাজ করছে।

"