ভূমিকম্প সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য

প্রকাশ | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বিবিসি বাংলা

সারা বিশ্বেই বড় বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। সম্প্রতি এ ধরনের ভূমিকম্পের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। ভূমিকম্প নিয়ে প্রাচীনকাল থেকেই নানা ধরনের ধারণা রয়েছে মানুষের মধ্যে। এখানে এ রকম বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরা হলোÑ

১. যুক্তরাষ্ট্রে ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওলজিক্যাল সার্ভে বলছে, প্রত্যেক বছর গড়ে ১৭টি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা সাতের ওপরে। আর আট মাত্রার ভূমিকম্প হয় একবার। তবে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বছরে লাখ লাখ ভূমিকম্প হয়। এর অনেকগুলো হয়তো বোঝাই যায় না।

২. জাপানের উত্তর-পূর্বে ২০০৯ সালের ১১ মার্চ একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৯। এর ফলে পরিবর্তন ঘটে পৃথিবীর ভরের বণ্টনে। তার প্রভাবে পৃথিবী ঘুরতে থাকে সামান্য দ্রুত গতিতে আর তখন দিনের দৈর্ঘ্য কমে যায়। সেদিন দিন ১.৮ মাইক্রো সেকেন্ড ছোট ছিল।

৩. যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহর প্রত্যেক বছর গড়ে দুই ইঞ্চি করে লস অ্যাঞ্জেলসের দিকে সরে যাচ্ছে। একই গতিতে বাড়ে আমাদের আঙুলের নখ। শহরের এই অবস্থান পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে সান অ্যানড্রেয়াস ফল্টের দুটো দিক ক্রমশ একটি অপরটিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই গতিতে চলতে থাকলে এই দুটো শহর কয়েক লাখ বছর পর একত্রিত হয়ে পড়বে।

৪. বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ভূমিকম্পের আগে পুকুর, খাল-বিল, হ্রদ, জলাশয়ের স্থির পানি থেকে দুর্গন্ধ আসতে পারে। এমনকি সেই পানি সামান্য উষ্ণও হয়ে পড়তে পারে। প্লেট সরে যাওয়ার কারণে মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস নির্গত হয় তার কারণে এটা হয়ে থাকে। এর ফলে ওই এলাকার বন্যপ্রাণীর আচরণেও পরিবর্তন ঘটতে পারে। ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ বলছে, ২০০৯ সালে ইটালিতে এক ভূমিকম্পের সময় এক ধরনের ব্যাঙ সেখান থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল এবং ফিরে এসেছিল ভূমিকম্পের পরে। বলা হয়, এই ব্যাঙ পানির রাসায়নিক পরিবর্তন খুব দ্রুত শনাক্ত করতে পারে।

৫. ভূমিকম্পের পরে পুকুরে কিম্বা সুইমিং পুলের পানিতে ঢেউ হতে পারে। একে বলা হায় শ্যাস। মেক্সিকোতে ১৯৮৫ সালে একবার ভূমিকম্প হয়েছিল। সে সময় মেক্সিকো থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূরে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুলের পানি ছিটকে পড়তে পড়তে শেষ হয়ে গিয়েছিল।

৬. ভূমিকম্পের কারণে যাতে বাড়িঘর ধসে না যায় সে বিষয়টি মাথায় রেখেই ইনকা আমলের স্থাপত্য ভবন ও জাপানি প্যাগোডা নির্মিত হয়েছিল। ৫০০ বছর আগে ইনকার স্থাপত্য কর্মীরা যখন মাচু পিচু শহর নির্মাণ করার সময় ঘন ঘন ভূমিকম্পের হাত থেকে রেহাই পেতে আদিকালের জ্ঞান কাজে লাগিয়েছিল।

৭. পৃথিবীতে যত ভূমিকম্প হয় তার অধিকাংশ, ৯০ শতাংশই হয় রিং অব ফায়ার এলাকাজুড়ে। এই এলাকাটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। ২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বড় ধরনের এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল চিলির কনসেপসিওন শহরে। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮.৮। এর ফলে পৃথিবীর শক্ত উপরিভাগে ফাটল ধরে এবং শহরটি ১০ ফুট পশ্চিমে সরে যায়।

৮. নেপালে ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কমে আসে হিমালয়ের অনেক পর্বতের উচ্চতাও। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কমে গিয়েছিল এক ইঞ্চির মতো।

৯. ইতিহাসে দেখা যায় জাপানি এক দ্বীপে মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল নামাজু নামের বিশাল এক ক্যাটফিশ। পৌরাণিক কল্প কাহিনিতে বলা হয়, অনেক ভূমিকম্প হয়েছিল এই মাছটির কারণে। প্রাচীন গ্রিকরা বিশ্বাস করতেন সমুদ্রের দেবতা পজিডন রেগে গিয়ে পৃথিবীর ওপর আঘাত করলে ভূমিকম্প হতো।

হিন্দু পুরাণে আছে এই পৃথিবীকে ধরে রেখেছে আটটি হাতি। এই হাতিগুলো দাঁড়িয়ে আছে একটি কচ্ছপের পিঠের ওপর। আর ওই কচ্ছপটি ছিল কুন্ডলী পাকিয়ে থাকা একটি সাপের ওপরে। এই প্রাণীগুলোর যেকোনো একটি যখন নড়ে উঠতো তখনই ভূমিকম্প হতো।

১০. ইন্দোনেশিয়া এবং ২০০৪ সালে সুনামির আগে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন যে, তারা অনেক পশু পাখিকে দেখেছেন উঁচু এলাকার দিকে ছুটে যেতে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভূমিকম্পের আগে ছোট ছোট কম্পন পশু-পাখিরা টের পেয়ে যায়।

১১. ব্রিটেনের একজন প্রকৌশলী জন মাইকেল ভূমিকম্পের কারণ উদ্ঘাটন করেছেন। এই আবিষ্কার হয়েছে ১৮০০ শতাব্দীর শুরুর দিকে। তাকে দেখা হয় ভূকম্পনবিদ্যার একজন জনক হিসেবে। তিনি বলেন, ভূপৃষ্ঠের বহু নিচে শিলা-খন্ডের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

"