আজব স্কুল ডেলফিয়ান

প্রকাশ | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ডেলফিয়ান স্কুলটা আর দশটা স্কুলের থেকে অনেক আলাদা। এই স্কুলে নিকোল কিডম্যান বা টম ক্রুজের মতো বিখ্যাত তারকাদের বাচ্চারা পড়েছে ঠিক ওই কারণে স্কুলটা আলোচনায় আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল এই স্কুলে পড়াশোনার কায়দাটা কী তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই ধোঁয়াশা আছে। বছরে ৪২ হাজার ডলার খরচ করে বাচ্চাদের ওই স্কুলে পাঠানোর মতো সংগতি না থাকায় স্কুলটার ব্যাপারে মানুষ কমই জানত। তা ছাড়া স্কুলের শিক্ষার্থীরাই আবার একে অন্যের ওপরে নজর রাখত, যাতে স্কুলের পড়ানোর ধরন বাইরের কেউ না বলতে পারে।

তবে এখন স্কুলের পুরনো শিক্ষার্থীরা একটু একটু মুখ খুলতে শুরু করেছেন। আর তাদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে অদ্ভুত সব তথ্য। এই স্কুলে নাকি পড়াশোনায় চিনামাটির বড় একটা ভূমিকা আছে। আইনকানুনেরও আছে একটা লম্বা তালিকা। স্কুল কর্তৃপক্ষ চায় শিক্ষার্থীরা আইন ভঙ্গকারীকে নিজেরাই ধরিয়ে দিক। সব মিলিয়ে আর দশটা সাধারণ স্কুলের থেকে ডেলফিয়ান স্কুল বেশ আলাদা। গত শতকের সত্তরের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগন অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

রন হুবার্ড ছিলেন একজন নেভি অফিসার ও সায়েন্সফিকশন লেখক। তার চিন্তাধারার ওপরে ভিত্তি করে এই স্কুলের শিক্ষাসূচি বানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার শিক্ষাবিদদের কাছে অবশ্য স্কুলটি মোটেও ভালো কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। এর গোপনীয়তা আর পড়াশোনার ধরনের ভিন্নতা অনেকেই পছন্দ করে না।

ডেলফিয়ান স্কুলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উন্নতির প্রতি বেশি নজর দেওয়া হয়। এর শিক্ষক আর নীতিনির্ধারকদের মতে, ‘স্টাডি টেক’ নামের এই পদ্ধতি বেশি কার্যকর। এর মুখ্য বক্তব্য হচ্ছে, সব পড়াশোনা-সংক্রান্ত সমস্যার মূলে আছে ঠিকমতো শব্দের অর্থ বুঝতে না পারা। কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে ছবি দিয়ে বা চীনামাটি দিয়ে বানিয়ে সেটা বোঝানো হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ মনে করে, প্রচলিত পড়াশোনার থেকে এভাবে হাতে-কলমে কাজ করলেই শিক্ষাটা সম্পূর্ণ হবে। পড়াশোনার সময়ে কোনো কিছু বুঝতে না পারলে সেটা বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বিষয়টি ভালোমতো আয়ত্তে এলে তবেই পরবর্তী ধাপের পড়াশোনা নিয়ে কাজ করা হয় এখানে।

এই স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে গ্রেড ১২ পর্যন্ত পড়ার সুযোগ আছে। আবাসিক এই স্কুলে শিক্ষার্থীদের নিজেদের আগে কোনো বিষয় বোঝার সুযোগ দেওয়া হয়। এই ছাত্রদের ওপর নজর রাখা এবং উপদেশ-নির্দেশ দেওয়ার কাজটাই শিক্ষকরা করে থাকেন। মাঝেমধ্যে নাকি স্রেফ দুইজন ছাত্রকে বলা হয় পরস্পরের দিকে দুই ঘণ্টা ধরে তাকিয়ে থাকতে। চোখের পলক ফেলা নিষিদ্ধ। এই স্কুলে দাড়ি-গোঁফ রাখাও নিষিদ্ধ। ‘রোভার’ নামক একদল ছাত্রই থাকে, যাদের কাজ হচ্ছে আইন ভঙ্গকারীকে ধরিয়ে দেওয়া। সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও এ কাজে উৎসাহ দেওয়া হয়। একটা বড় তালিকা বানিয়ে তাতে আইন ভঙ্গকারীর নাম আর অপরাধ লিখে রাখা হয়।

জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো আধুনিক ইউরোপীয় দেশগুলো এই শিক্ষাপদ্ধতিকে মোটেই সুনজরে দেখে না। অবশ্য স্কুলের কর্তাব্যক্তিরা তাতে পাত্তা দেন না। একে তো এই স্কুলে পড়ে কোটিপতিদের সন্তানরা, যারা তাদের সমর্থন দিতে প্রস্তুত, তার ওপর মার্কিন সরকার স্কুলটিকে বৈধতা দিয়ে দিয়েছে।

স্কুল থেকে পাস করা অনেকেই এখন প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু সেই সঙ্গে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর অভিযোগ, এই স্কুলে তারা পড়াশোনা করে বিশেষ কিছু শিখতেই পারেনি।

"