দেশেই চালু হচ্ছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

পাঠান সোহাগ

দেশের প্রথম সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে আজ। এই হাসপাতাল হবে আন্তর্জাতিক মানের। থাকবে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সেবা ও ব্যবস্থাপনা। সকল কার্যক্রম থাকবে পরিবেশবান্ধব ও ডিজিটাল পদ্ধতির। ওই হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমও চলবে। ইতোমধ্যে ৮০ জন চিকিৎসক, ৩০ জন নার্স ও ১০ জন কর্মকর্তাকে কোরিয়ায় উন্নতমানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আজ সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উত্তর দিকে কেবিন ব্লকের পেছনে ১২ বিঘা জমির ওপর দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ-এর অর্থায়নে নির্মিতব্য সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিরপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সেন্টার অব এক্সিলেন্স প্রকল্পের স্থাপনাসমূহের উদ্বোধন করবেন তিনি।

এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল হবে ১ হাজার শয্যার। সিঙ্গাপুর, কোরিয়াসহ বিশ্বের উন্নত দেশের সেন্টার বেইজড আদলে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।

জানা যায়, ২০১৬ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘এস্টাবলিশমেন্ট অব আ মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড সুপার স্পেশালাইজড হসপিটাল বিএসএমএমইউ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন হয়।

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, চলতি বছরের ৩১ জুলাই থেকে আগামী ৩০ মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি হাসপাতালের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। দুটি বেজমেন্টসহ ১৩ তলা এ ভবনে এক হাজার শয্যা থাকবে। প্রথম ধাপে থাকবে ৭০০ শয্যা। পরবর্তীতে আরো ৩০০ শয্যার নির্মাণকাজ করা হবে। হাসপাতালটি চালু হলে চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরো গতিশীল ও উন্নত হবে।

তিনি আরো বলেন, সিঙ্গাপুর, কোরিয়াসহ বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশে সেন্টার বেইজড চিকিৎসা সেবা পদ্ধতি চালু আছে। বাংলাদেশে এ ধরনের হাসপাতাল এই প্রথম। বর্তমানে নব নির্মিত হাসপাতাল ভবনের প্রথম ফেজ এ থাকবে- স্পেশালাইজড অটিজম সেন্টারসহ ম্যাটারনাল এন্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল কেয়ার সেন্টার, হেপাটোবিলিয়ারি ও গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলজি সেন্টার, কার্ডিও ও সেরিব্রো ভাসকুলার সেন্টার, কিডনি সেন্টার। দ্বিতীয় ফেজ এ থাকবে রেসপিরেটরি মেডিসিন সেন্টার, জেনারেল সার্জারি সেন্টার, অফথালমোলজি/ডেন্টিস্ট্রি/ডামাটোলজি সেন্টার, ফিজিক্যাল মেডিসিন/রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ইত্যাদি।

এ ছাড়াও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটিতে থাকবে সানকেন গার্ডেন, রুফটপ গার্ডেন ও অন্যান্য পরিবশেবান্ধব সুযোগ-সুবিধা। সুপরিসর এই হাসপাতালে বহির্বিভাগ ও ইনফো ডেস্ক থাকবে। হসপিটাল ইনফরমেশন সেন্টার চালু করার মাধ্যমে রোগী ও হাসপাতাল পরিচালনা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

কনককান্তি বড়–য়া আরো বলেন, জনসাধারণ এখানে সাশ্রয়ীমূল্যে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা পাবেন। এর পাশাপাশি ভিভিআইপি ও ভিআইপি কেবিনও থাকবে হাসপাতালটিতে। এই হাসপাতালে কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টের সুবিধা থাকবে। এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি স্বাস্থ্য সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিশেষ করে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি উন্নত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের দিগন্ত প্রসারিত হবে।

তিনি জানান, এখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে সেবা গ্রহণ করবে ২ হাজার থেকে ৪ হাজার রোগী। আন্তবিভাগে প্রতিবছর প্রায় ২২ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা পাবেন। প্রতিবছর দেশের বাইরে চলে যাওয়া ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি।

বিএসএমএমইউ সূত্রে জানা গেছে, কোরিয়ার হুন্দাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, বাংলাদেশ সরকার ও বিএসএমএমইউ এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বহন করবে। প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি হবে বিএসএমএমইউয়ের সম্প্রসারণ। বিএসএমএমইউয়ের বিদ্যমান অতিরিক্ত জনবল দিয়ে এ হাসপাতাল পরিচালিত হবে। এর বাইরে ৩৫ শতাংশ নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুলফিকার রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখন যেসব পরীক্ষার জন্য কথায় কথায় বিদেশ যাই, হাসপাতালটি নির্মাণ হলে আমাদের আর কষ্ট করে বিদেশ যেতে হবে না। পাশাপাশি কমবে চিকিৎসা ব্যয়। দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

বিএসএমএমইউ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ১৯০৪ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৭০০০ থেকে ৮০০০ রোগী এবং বৈকালিক স্পেশালাইজড আউটডোরে ৯০০ থেকে ১০০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬২টি রেসিডেন্সি কোর্সসহ ৯৫টি বিয়য়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স চালু আছে। ৫৬টি বিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ রোগীদের আধুনিক ও উন্নতসেবা প্রদান করে আসছেন।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, বিএসএমএমইউ রোগীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবেও প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রয়েছে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইরান, নেপাল, প্যালেসটাইন, ভুটান, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের ৩৩৭ জন ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কর্মে নিয়োজিত আছেন।

জন হপকিন্স, শিকাগো ইউনিভার্সিটি, মাহিদোল ইউনিভার্সিটিসহ ৩০টির বেশি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানান তারা। এ ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা মঞ্জুরি ও থিসিস গ্রান্ট চালু করা হয়েছে।

"