প্রথম কলাম

কম খরচে সুখী হওয়ার উপায়

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

শরীর ও মনের সুখ-শান্তির জন্য বহু টাকা খরচ করে ইয়োগা ক্লাস, ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট, ব্যয়বহুল স্পা অথবা স্বপ্নের দেশে লম্বা অবকাশযাপন- কোনোটাই কার্যকর নাও হতে পারে। এদিকে নিত্যদিনকার এমন কিছু সাদাসিধে ব্যাপার আছে যা হয়তো একজন মানুষের জীবনকে সুখী, স্বস্তিকর এবং সুন্দর করে তুলতে পারে। ঘরকে করে তুলুন যতটা সম্ভব সবুজ। মৌলিক যে বিষয়টি সবাই জানানে যে, গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়ে; যা আমাদের বেঁচে থাকার শক্তি। কিছু কিছু গাছ বায়ুকে বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে কারণ ওইসব গাছ বায়ু থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক টেনে নেয়। শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য দারুণ কিছু করতে চাইলে দিনের বেলা প্রচুর পানি পান করেত হবে। খবর বিবিসি।

মানুষের শরীরের প্রধান উপাদান পানি। প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারীর শরীরে ৫৫ শতাংশ এবং পুরুষের শরীরে ৬০ শতাংশ কার্যক্ষমতার জন্য পানি প্রয়োজন। সে কারণে শরীরে পর্যাপ্ত জলীয় থাকলে সুস্বাস্থ্য, শক্তির মাত্রা বাড়া এবং মনোযোগের শক্তি বাড়ে।

যদি প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে বিস্বাদ মনে হয়, তাহলে তার সঙ্গে লেবু বা শসা কিংবা আদার টুকরা মেশানো যেতে পারে। এমনকি পানি খাওয়ার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারলে তাদের জন্য ইন্টারনেট অ্যাপসও আছে, যার মাধ্যমে পানি পানের জন্য রিমাইন্ডার পাঠানো হবে।

আমরা আমাদের ঘরবাড়ি কীভাবে সাজাই, সেটা আমাদের মেজাজের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। সেই সঙ্গে কতটা ঘুমাই এবং আমাদের এনার্জি লেভেল কেমন তাতেও প্রভাব ফেলে। যদি আপনি সেখানে নতুন রূপ দিতে চান, তাহলে শোবার ঘর থেকে শুরু করুন।

মুক্ত বাতাসের জন্য জানালা খুলে দিন, যতটা সম্ভব দিনের আলো ঘরে ঢোকার ব্যবস্থা রাখুন। পরিষ্কার রাখুন কাপবার্ডের সবকিছু এবং বিছানার তলা পরিচ্ছন্ন রাখুন।

বাড়ির দেয়ালের রং মানুষের মুড বা মন-মেজাজের ওপর দারুণভাবে প্রভাব রাখে। সবুজ রং প্রকৃতির প্রতিনিধিত্ব করে এই রং ঘরের ভেতর ভারসাম্য, সমন্বয় এবং শিথিলতা এনে দিতে পারে। নীল রং একটি নান্দনিক গুণসম্পন্ন রং। এটি প্রশান্তির এক অনুভূতি তৈরি করে এবং বিশ্রাম এনে দেয়। এ কারণে এই রং শোবার ঘরের জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। তবে লাল রং এড়িয়ে যাওয়া উচিত, কারণ তা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসকে দ্রুত করে যা হার্ট-রেট এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

শুনলে হয়তো কুউ কুউ শোনায়, কিন্তু লন্ডনের বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পাখিদের গান বা কিচিরমিচির শব্দ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

গবেষণা বলছে, বিড়াল পোষার ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। চার হাজারের বেশি আমেরিকান নাগরিকের ওপর ১০ বছর ধরে চালানো গবেষণায় ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার স্ট্রোক ইনস্টিটিউট ইন মিনেপলিসের গবেষকরা দেখেছেন যে, বিড়াল পুষেছেন এমন ব্যক্তিদের অন্যদের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকে কিংবা স্ট্রোকে মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ কম ছিল।

নির্মল হাসি আমাদের পেশিগুলোকে আলগা করে, রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে, নাইট্রিক অক্সাইড বের করে দেয়, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। হাসি স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং শরীরের অ্যান্ডোরফিন শিথিল করে, যার ফলে আমাদের শরীর আরাম পায় এবং এটা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এটা ঠিক যে, হাসি সত্যিকারভাবেই শ্রেষ্ঠ ওষুধ। যেসব বন্ধুর সঙ্গ আনন্দ দেয়, তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, কমেডি দেখা ইত্যাদি হতে পারে সুন্দর সময় কাটানোর উৎস। আর ততটা সামাজিক না হলে ভিডিও দেখা যেতে পারে।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ যেমন- সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে এবং আইসল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশগুলোর অন্যতম। কাজের ক্ষেত্রে সুখী এবং উন্নতির জন্য বেশকিছু কৌশল অনুসরণ করে থাকে সেখানকার মানুষ।

সুইডেনে একটি রীতি প্রচলিত আছে যা ফিকা নামে পরিচিত, যার ফলে প্রতিদিন কফি ও কেক খাওয়ার জন্য বিরতি নিতে হয় যখন কলিগরা একত্র হন। তারা হয়তো কফির পাত্র নিয়ে বসে এবং সঙ্গে থাকে কিছু ঘরে বানানো খাবার। কর্মক্ষেত্রে ফিকা এক ধরনের অবশ্য পালনীয় রীতি। সুস্থতা এবং ভালো থাকার জন্য খাবার এবং ব্যায়ামের মতো মানসিক এবং শারীরিক বিশ্রাম খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম কম হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। স্ট্রেস হরমোন লেভেল বেড়ে যায়, উদ্বেগ এবং বিষণœতা দেখা যায়। আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের শরীরের ভেতর নানা কাজ চলে।

ভালো ঘুমের জন্য পরিশ্রম দরকার। শোবার ঘরকে পরিষ্কার এবং নীরব রাখা দরকার, রাতে দেরি করে খাওয়াও বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে সব ধরনের ডিভাইসের আলো যাতে না থাকতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ ফোন বা ট্যাবলেট দিয়ে বেরোনো সামান্য নীল আলোও আপনার ঘুম নষ্ট করে দিতে পারে। দিনের শেষভাগে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় বাদ দিতে হবে।

"