শ্রীমঙ্গলে সরকারি ভূমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সরকারি ডিসি খতিয়ানের কোটি টাকা মূল্যের একটি মার্কেটের ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উচ্ছেদ আতঙ্কে আছেন মার্কেটের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংর্ষের ঘটনার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোপুর্বে ওই মার্কেটের দখল নিয়ে উভয়গ্রুপ একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন ও থানায় অভিযোগ করেছে। একটি প্রভাবশালী মহল এই ভূমির মালিকানা দাবি করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই মার্কেটের দখল নিয়ে সংঘাতের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। ভূমির লিজ গ্রহীতা আবদুল হালিম অভিযোগ করেছেন, জেলা প্রশাসনের গাফলাতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই জটিলতায় সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালীরা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করছেন তিনি। পৌর শহরের সাগরদীঘি সড়কের সরকারি ভূমিতে নির্মিত মার্কেটের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার রূপশপুর মৌজার জেলা প্রশাসনের ‘ক’ তফশিল ভুক্ত ভিপি বন্দোবস্ত মোকদ্দমা ৮৬/৬৮ মূলে বিগত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ সালে জনৈক আবদুল হান্নান ২৪ শতক ভূমি বন্দোবস্তপ্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন। পরবর্তীতে আবদুল হান্নানের লিজ বাতিল হওয়ায় ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে ২৪ শতক ভূমির মধ্যে ১৬ শতক ভূমি লিজমানি পরিশোধ করার পর জনৈক আবদুল হালিম সরকারের কাছ থেকে একসনা বন্দোবস্ত পান। আবদুুল হালিম মার্কেটের পৌরকররহ যাবতীয় খাজনা পরিশোধ করে ব্যবসা করে আসছেন।

গত ২০১৪ সালে আবদুল হান্নানের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিকী মোহন লন্ডন চলে যাওয়ার পর তার মামা জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান ওই মার্কেটের ১৬ শতক ভূমিতে নির্মিত মার্কেটের দোকান কোঠা দাবি করে আসছেন। এ ছাড়া আবদুুল হালিমের ভাড়াটিয়া উচ্ছেদসহ নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আবদুুল হালিম। মার্কেটে অবস্থিত ১৩টি দোকান ও ১ টি অফিস রয়েছে। তারমধ্যে তিনটি দোকান কোঠা আবদুল হালিমের খালা শিরিন আক্তার পার্টনারশিপে ব্যবসা পরিচালনাসহ মার্কেট দেখাশোনা করে যাচ্ছেন ।

আনোয়ার মেটাল ওয়ার্কশপের মালিক শিরিন আক্তার বলেন, আমার বোনের ছেলে আবদুুল হালিমের নিকট থেকে এই মার্কেটে তিনি ও তার ভাইসহ নয় জন ব্যবসায়ী দোকান ভাড়া নিয়া ৮-১০ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে মশিউর রহমান রিপন, আবু বক্কর সিদ্দিকী মোহন মার্কেটের মালিকানা দাবি করে তাদের কাছ থেকে ভাড়া দাবি করে আসছেন। গত ১ আগস্ট মশিউর রহমান রিপন ও তার লোকজন তাদের আনোয়ার মেটাল ওয়ার্কশপে তালা দিয়ে চাবি দাবি করে। আর চাবি না দিলে তার ভাই শাহিনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে শিরিন জানান। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান রিপন বলেন, ‘এ জমির মধ্যে আমি ৪ শতক ভূমির বৈধ মালিক। বাকি ১৬ শতক ভূমি ২ বছর ধরে কারো নামে লিজ নেই।’

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি কে এম নজরুল বলেন, এ মার্কেটের দখল-বেদখল নিয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশেকুল হক বলেন, আবুল হালিম বৈধ লিজার। লিজ নবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্দেশে তদন্ত করে ওই ভূমিতে ১৩টি দোকান কোঠা ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে আবদুল হালিমের দখলে পাওয়া যায়। লিজমানি ৮৩ হাজার ৬৪০ টাকা আদায়সহ আবদুল হালিমের নামে লিজ নাবায়নের জন্য সুপারিশ করে গত ৮ মার্চ জেলা প্রশাসনে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়। যাহা প্রক্রিয়াধীন আছে।

ভূমি বন্দোবস্ত নবায়নে লিজমানি জমা নেওয়ার সুপারিশ সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন থেকে কেন নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না- জানতে চাইলে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কেন নেওয়া হচ্ছে না খোঁজ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে’ বলে তিনি জানান।

"