বিদ্যুৎ খাতে ৩৫ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৩৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে গ্রিড ও সঞ্চালন লাইন সম্প্রসারণে নেওয়া ‘সাউথওয়েস্ট ট্রান্সমিশন গ্রিড এক্সপানশন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে এই অর্থ।

এডিবির এই ঋণের ক্ষেত্রে লাইবর (লন্ডন আন্তঃব্যাংক রেট) সুদ হারের সঙ্গে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ হারে ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম এবং ব্যয় না হওয়া অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট চার্জসহ প্রায় ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে বাংলাদেশকে। পাঁচ বছর রেয়াতকালসহ ২৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

গতকাল সোমবার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এডিবি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে এই ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঢাকায় এডিবির আবাসিক প্রতিনিধি মনমোহন প্রকাশ এবং ইআরডি সচিব শফিকুল আযম এই চুক্তিতে সই করেন।

ইআরডি সচিব অনুষ্ঠানে বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ খাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আমরা প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আরো বিদ্যুৎ দরকার।’ এডিবিকে বাংলাদেশের উন্নয়নের ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করে শফিকুল আযম বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে এ সংস্থা ১২০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। আমরা বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ের বড় বড় টার্গেট নিয়েও এখন সফলতা পাচ্ছি। গত অর্থবছরে আমরা ছয় বিলিয়ন ডলারের টার্গেট পূরণ করেছি। চলতি অর্থবছরের জন্য নেওয়া সাত বিলিয়ন ডলারের টার্গেটও আমরা পূরণ করতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।’

এডিবি প্রতিনিধি মনমোহন প্রকাশ বলেন, যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিদ্যুৎ। বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে পাশে থাকতেই আমরা এ প্রকল্পসহ অনেক প্রকল্পে অর্থায়ন করছি।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সাউথওয়েস্ট ট্রান্সমিশন গ্রিড এক্সপানশন প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর মধ্যে এডিবি দিচ্ছে ৩৫ কোটি ডলার। এছাড়া এ প্রকল্পে জন্য এডিবির ‘জাপান ফান্ড ফর দ্য জয়েন্ট ক্রেডিট মেকানিজম’ থেকে ৭০ লাখ ডলার এবং কোরিয়ার একটি তহবিল থেকে আরো ৫ লাখ ডলারের অনুদান পাওয়া যাচ্ছে। বাকি ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের জোগান দেওয়া হচ্ছে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

 

"