রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক

শেখ হাসিনাকে নিশ্চিহ্ন করতেই ২১ আগস্ট হামলা

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে নিশ্চিহ্ন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন চারদলীয় জোটের শাসন ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতেই ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। একুশে আগস্টের ওই ঘটনার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্কে এ কথা বলেন। নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে গতকাল সোমবার তিনি তার যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। চলছে।

যুক্তিতর্কে আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল বলেন, যারা দেশকে পুনরায় পাকিস্তানে পরিণত করতে চেয়েছিল তারাই বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবার হত্যা করেছে। একইভাবে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর রক্ত শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্য করা হয়। হাওয়া ভবনসহ ১০টি স্থানে হামলার ষড়যন্ত্রমূলক সভা ও পরিকল্পনা করা হয়। যাতে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রীসহ তাদের অনুগত প্রশাসনের কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলাকারীরা নির্বিঘেœ পালিয়ে যেতেও সক্ষম হয়। এর আগে গত ৫ আগস্ট টানা ৮৯ কার্যদিবসে আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক শেষ করেছে। এরপর ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল যুক্তিতর্ক পেশ শুরু করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, বিশেষ পিপি মো. আবু আবদুল্লাহ্ ভূঁইয়া, আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা, আমিনুর রহমান, আশরাফ হোসেন তিতাস উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে ছিলেন এস এম শাহজাহান, নজরুল ইসলাম, মাসুদ রানা প্রমুখ। উল্লেখ্য-এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামিপক্ষে সাক্ষীদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ২৪ জন নিহত ও দলটির নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আওয়ামী লীগের প্রথম সারির কয়েকজন নেতা মারাত্মক আহত হন ওই হামলায়।

 

"