মোটরসাইকেল শিল্পে ১৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশেই বিশ্বমানের মোটরসাইকেল তৈরি করে ২০২৭ সালের মধ্যে এ খাতে ১৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ঠিক করে একটি নীতিমালায় অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার তার কার্যালয়ে ‘মোটরসাইকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৮’ এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা পরিষদ আইন-২০২৮’ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ৪ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সভায় ‘বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আইন-২০১৮’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, দেশীয় মোটরসাইকেল শিল্পের প্রসার ঘটাতে এই নীতিমালা করা হয়েছে, যেন মোটরসাইকেল আমদানি করতে না হয়। বাংলাদেশে বিদ্যমান মোটরসাইকেল সংযোজন শিল্পের পরিবর্তে এখানে বিশ্বমানের মোটরসাইকেল উৎপাদন কারখানা সৃষ্টিতে উৎসাহিত করা হবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে এই খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

মোটরসাইকেল খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে ১৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান সচিব। তিনি বলেন, নীতিমালার উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন করে মোটরসাইকেল তৈরি বা সংযোজন যেটাই করা হোক, দেশীয় শিল্প কারখানার মাধ্যমে তা উৎপাদন করা হবে। যানজট ও চলাচলের সুবিধার কারণে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেলের জনপ্রিয়তা বেশ কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। এর মধ্যে সরকার রাইড শেয়ারিং নীতিমালা অনুমোদন করার পর মোটারসাইকেলের বিক্রি বাড়ছে হু হু করে।

বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের বাজারের আকার কেমন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে আমদানিকারক ও পরিবেশকদের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিদিন হাজারের বেশি মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে, যা ৫ বছর আগেও এর অর্ধেক ছিল। বর্তমানে দেশে প্রতি ১১৬ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করায় এই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়ানোর সম্ভাব বলে ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ লাখ এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ১০ লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে নীতিমালায়। দেশে মোটরসাইকেল তৈরির পর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো সরবরাহ করা হবে। মোটরসাইকেল শিল্প থেকে ডিজিপিতে অবদান ০.৫ শতাংশ জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে তা ২.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা পরিষদ আইন গবেষণায় কমিটির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কমিটির প্রধান হবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ও গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রকৌশল গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠানটি হবে, এজন্য প্রকৌশল বা স্থাপত্য বিদ্যায় যাদের ব্যাকগ্রাউন্ড আছে তাদের আইনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আইনটি বাংলায় অনুবাদ করে সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৯ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা বোর্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। একাডেমির নির্বাহী প্রধান ছিলেন পরিচালক, এখন পরিচালকের পদ মহাপরিচালক হবে। আগে সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে চেয়ারম্যান নিয়োগ হতেন, এখন বলা হয়েছে প্রথিতযশা শিশু সাহিত্যিক বা স্বাধীনতা পদক বা একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ বা সাহিত্যিকদের মধ্যে থেকে একজনকে একাডেমির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা যাবে।

 

"