আশুলিয়ায় অপহৃত পোশাকশ্রমিক ময়মনসিংহে উদ্ধার

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আশুলিয়া প্রতিনিধি

আশুলিয়া থেকে অপহরণের একদিন পর পোশাকশ্রমিক নিউটন চাকমাকে ময়মনসিংহ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণকারীরা অপহৃতের স্ত্রীর নিকট মুক্তিপণ বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করলে তিনি আশুলিয়া থানায় এসে ওই দিন বিকেলে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ অপহরণকারীদের মুঠোফোন নম্বরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার হরি শংকর রোড, গাঙিনার পাড় একটি খোলা জায়গা থেকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন। অপহৃতের স্ত্রী সীমা চাকমা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৬ টায় আশুলিয়ার বাইপাইল স্ট্যান্ডে একটি সাদা মাইক্রোবাসে টঙ্গী যাওয়ার কথা বলে নিউটন চাকমাকে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইলে অপহরণকারীরা এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে তার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। স্বামীকে অপহরণকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে স্ত্রী সীমা চাকমা ৫ হাজার টাকা একটি বিকাশ একাউন্টে প্রেরণ করেন। বাকি টাকার জন্য সময় নেন। অপহৃত নিউটন রাঙামাটি জেলার জোড়াছড়ি থানাধীন চুমাচুমি এলাকার অনিল কুমার চাকমার ছেলে। তিনি গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। আশুলিয়ার ডেন্ডাবর পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার শরীফুল ইসলামের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। তার স্ত্রী সীমা আক্তার ডিইপিজেড পোশাক কারখানার শ্রমিক। এ ব্যাপারে অপহৃতের স্ত্রী সীমা চাকমা বলেন, প্রতিদিনের মতো তার স্বামী নিউটন চাকমা গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজে যোগদানের জন্য বাসা থেকে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ৬টায় আশুলিয়ার বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করেন। এ সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস টঙ্গী যাবে বলে যাত্রী ডাকাডাকি করে। তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য ওই মাইক্রোবাসে ওঠেন নিউটন। গাড়িতে ওঠার পর তার হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। তার ব্যবহৃত মোবাইল দিয়ে ফোন করে বিকাশে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। এ ছাড়া একটি বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকার জন্য সময় নেন। জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, অপহরণকারীদের মুঠোফোনের কলের তালিকার সূত্র ধরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে ময়মনসিংহের হরি শংকর রোডের গাঙ্গিনার পাড়ে একটি খোলামাঠে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। তবে তদন্তের স্বার্থে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়া করা যাচ্ছে না বলেও তিনি জানান।

"