সরিষাবাড়ীতে সিদ্দিক রাজাকারের বিচার চেয়ে স্মারকলিপি

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পুঠিয়ারপাড়া গ্রামের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী আবু বক্কর সিদ্দিক (৭০) ওরফে সিদ্দিক রাজাকারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন গ্রামবাসী। গতকাল রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ১৫৭ জন গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি পেশ করা হয়। এ সময় এক মুক্তিযোদ্ধা একাত্তরে সিদ্দিক রাজাকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি জানিয়েছেন গ্রামবাসী এই রাজাকারের বিচার দাবি করেছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পুঠিয়ারপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল কাদের মন্ডলের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী এবং সরাসরি হত্যা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগে জড়িত ছিলেন। এলাকায় তিনি ‘সিদ্দিক রাজাকার’ নামে পরিচিত। দেশ স্বাধীনের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না হওয়ায় বর্তমানে তিনি বেপরোয়া। অন্যের জমি দখল, তুচ্ছ কারণে নিরীহ লোকদের মারধর, খুন-জখমের হুমকি, মিথ্যা মামলায় হয়রানিসহ তার পারিবারিক প্রভাব ও অত্যাচারে নিরীহ গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বারবার সালিশ-বৈঠকে সাবধান করায় উল্টো তিনি গ্রামের মাতব্বরদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন।

গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিদ্দিক রাজাকার তার ছোটভাই সোহরাব আলীর দুই বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছেন। সোহরাব আলী প্রবাসে থাকায় তার পরিবারের লোকদের বাড়িঘরে প্রবেশে বাধা দিয়ে পুকুরের মাছ ও গাছপালা বিক্রি করেন। গত ২ সেপ্টেম্বর রোববার সিদ্দিক রাজাকার একই গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলাকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে তার ঘরে আটকে রাখেন। গ্রামবাসীর চাপে তাকে ছেড়ে দিলেও বর্তমানে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর আবদুুর রশিদের ছেলে সফিকুল ইসলাম বাবুকে মারধর, সামছুল মিয়ার ছেলে লিটনের বাড়িতে হামলা, হযরত আলী মুসল্লির ছেলে ওয়াজেদ মিয়া ও মৃত আবদুুল খালেকের ছেলে আবদুুর রাজ্জাককে তুচ্ছ কারণে প্রাণনাশের হুমকি দেন। কিছুদিন আগে দরিদ্র রিকশাচালক চানু মিয়ার ছেলে নূরনবীকে রিকশা ভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারপিট করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘আমি সিদ্দিক রাজাকার, কাউকে ভয় পাই না, কাকে কীভাবে সাইজ করতে হয় জানি।’ এদিকে বাধ্য হয়ে গ্রামবাসী তার অত্যাচারের প্রতিকার ও একাত্তরের ভূমিকায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্মারকলিপি দেয়। এ সময় পোগলদিঘা ইউনিয়নের মোনারপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করিম উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান, ‘আবু বক্কর সিদ্দিক তার সহপাঠী। একাত্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কাজে অংশ নিয়েছিলেন।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত অভিযোগ পেয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসিকে বলা হয়েছে।’

"