কুমিল্লার লালমাইয়ে প্রধান বিচারপতি

ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরও মানবকল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন সরকারের উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরও মানব কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। আবদুল বাসেত মজুমদার ট্রাস্ট হাসপাতালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। গত শনিবার কুমিল্লার লালমাই উপজেলার শানিচোঁ গ্রামে এ সভা হয়।

‘আবদুল বাসেত মজুমদার ট্রাস্ট হাসপাতাল’ নির্মাণ করার জন্য অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদারকে ধন্যবাদ জানান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, বাসেত মজুমদার একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। শ শ জুনিয়র তার মাধ্যমে আইনজীবী পেশাকে অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিবছর বাসেত মজুমদার দুস্থ ও অসহায় আইনজীবীদের জন্য ৩ লাখ টাকা দান করেন। এটি একটি বিরল ঘটনা। তিনি তার এলাকায় মসজিদ, এতিমখানা, হাসপাতাল করেছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক মুজিব। সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন কুমিল্লা সদর আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহা উদ্দিন বাহার, বিদ্যুৎ, জ¦ালানি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। এ সময় আরো ছিলেন বেগম বাবলী এমপি, বিচারপতি আশফাকুল কামাল, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ আমন্ত্রিত অতিথি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন কথা কম বলেন, কাজ বেশি করেন। সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহা কথা বেশি বলতেন, কাজ কম করতেন। এখন বিচার বিভাগে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহা উদ্দিন বাহার বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন বাঙালির মধ্য থেকে প্রধান বিচারপতি হবে। এখন মনে হয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। কুমিল্লা ৯ আসনের (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদ সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লার কৃতী সন্তান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ অনুষ্ঠানে যোগদান করায় আমরা গর্বিত, আমরা আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি সুশাসন কায়েম হলে দেশ উন্নত হবে। বর্তমান সরকারের আমলে আইনের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জনগণ এর সুফল ভোগ করছে। এ ছাড়াও বাসেত মজুমদার যে হাসপাতালটি নির্মাণ করেছেন সেখান থেকে মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে পারবে। বাসেত মজুমদার সবসময় দুস্থ ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ান। তাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় শত ব্যস্ততার মাঝে প্রধান বিচারপতি যে যোগদান করেছেন, এতেই আমি ধন্য। আমি মানুষের কল্যাণে কাজ করি। স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিয়েছি। আমার ছেলে ও মেয়ে উভয়ই ডাক্তার। আমি মনে করি মানুষ বেঁচে থাকবে কাজের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সভায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সহধর্মিণী সামিনা খান, সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন, লালমাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক বিএসসি, লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউনুছ ভূঁইয়া, পিপি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, কুমিল্লা জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট তানজিনা আক্তার, লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম হিরা, চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান শাহীন জিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আগে আবদুল বাসেত মজুমদার ট্রাস্ট হাসপাতালের ফলক উন্মোচন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এ সময় অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন সভায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ নুরুর রহমান।

ক্যাপশনঃ কুমিল্লার লালমাই উপজেলার শানিচোঁ গ্রামে শনিবার আবদুল বাসেত মজুমদার ট্রাস্ট হাসপাতালের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

"