কিশোরকে নির্যাতন : এএসপিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বশির আহম্মেদ মোল্লা, নরসিংদী

নরসিংদীর মনোহরদীতে এক ইউপি সদস্যের ছেলেকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় খলিলুর রহমান নামে পুলিশের এক এএসপিসহ ৬ জনের নামে মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন নির্যাতিত ওই কিশোরের মা শিউলি বেগম। জানা যায়, বাদী মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য জসিম উদ্দিন মৃধার স্ত্রী। গত ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন এএসপি খলিলুর রহমানের তিন ভাই ওলি মিয়া, আবদুল মালেক, আসাদুল্লাহ, ভাতিজা টিপু ও রফিজ উদ্দিনের ছেলে মোশারফ মিয়া। অভিযুক্ত এএসপি খলিলুর রহমান ওই ইউনিয়নের মৃত সুলতান উদ্দিনের ছেলে। তিনি এসবি ঢাকা (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) সহকারী পুলিশ সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন। মামলায় বাদী শিউলি বেগম অভিযোগ করেন, গত ২৮ আগস্ট অভিযুক্ত খলিলুর রহমান ও তার ভাইরা মিলে তার ছেলে রনি মৃধা (১৮) কে মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ধরে নিয়ে বাড়ির পাশে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করেন। ঘটনার পর ছেলেকে নির্যাতনের বিষয় জানতে গেলে তারা শিউলি বেগমকেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এক পর্যায়ে তারা ছেলের সামনে শিউলি বেগমের শরীরের জামাকাপড় ছিড়ে তাকেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এ সময় অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন তা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার মনোহরদী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসার কথা বলে। পরে শিউলি বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি ও তার স্বামী একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।

মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য ও নির্যাতিত কিশোরের বাবা জসিম উদ্দিন এ ব্যাপারে বলেন, এএসপি ও তার ভাইয়েরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় মানুষকে হয়রানি করে থাকেন। সমাজে আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য আমার কলেজ পড়–য়া ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে, প্রতিবাদ করলে আমার স্ত্রীকেও নির্যাতন করে।

এ ব্যাপারে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, নির্যাতনের বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করতে আসেনি। তবে এএসপি সাহেব মোবাইল ফোনে জানান যে, ঘটনার দিন তিনি বাড়ির বাইরে বের হলে এলাকার কিছু ছেলে ওনার মোবাইল ফোন ছিনতাই করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যের ছেলে জড়িত ছিল বলেও জানান। পরে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেয়।

এ ব্যাপারে জানার জন্য একদুয়ারিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান মিটুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অপরদিকে বিষয়টি নিয়ে এএসপি খলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে এ ব্যাপারে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

"