বললেন শিক্ষামন্ত্রী

উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হবে

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ঢাবি প্রতিনিধি

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হবে। তাহলেই দেশ মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন হয়ে এগিয়ে যাবে। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলার রুমি সৈয়দ আহমদুল হক-এর জন্মশত ও সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আল্লামা রুমি সোসাইটি বাংলাদেশ’ এই সেমিনারের আয়োজন করে। সাবেক রাষ্ট্রদূত লিয়াকত আলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক কে এম সাইফুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আব্বাস ভায়েজি দেহনাভি, ঢাবি বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. কাজী নুরুল ইসলাম, ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. শওকত আলী ওয়ারেছী প্রমুখ।

সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা যদি মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণ করে চলতে পারি তাহলে আমাদের দেশ আরো সুন্দর হবে। দেশের সংকট মোকাবিলা করার জন্য তিনি আল্লামা রুমির বাণী অনুসরণ করার আহ্বান জানান।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমরা কোনোদিন স্বাধীন ছিলাম না। ১৯৭১ সাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা লাভ করেছি। আমাদের স্বপ্ন ছিল উন্নত সমৃদ্ধিশালী একটি দেশ গঠন। কিন্তু আমাদের নানা ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। ’৭৫ এ জাতির জনককে হত্যা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যেই যাই বলুক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন দেশে-বিদেশে স্বীকৃতি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ধর্মকে অপব্যাখা করে তরুণদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। বলা হয় মরলেই বেহেশত। তরুণদের মাঝে এই মিথ্যা মাদকতা ছড়ানো উন্মোচন করতে হবে। দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতা বর্জন করে সুষ্ঠু পথে এগিয়ে যেতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সেই ধারায় অগ্রসর হতে হবে।

লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন, আমাদের সমাজ সভ্যতা বিবর্তনে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আধ্যাত্মবাদ ছাড়া ধর্মকে কল্পনা করা যায় না। সব ধর্মেই আধ্যাত্মবাদ রয়েছে। ইসলামও এর ব্যতিক্রম নয়। আধ্যাত্মবাদের অন্যতম শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সুফিবাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। মানুষ হানাহানির বিরুদ্ধে সচেতন হয়েছে। এটিই সুফিবাদের সফলতা।

বাংলাদেশে সুফিবাদের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রসার ঘটেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেসকল বিষয়গুলো সুফিবাদের শুরু থেকে ছিল তা ভবিষ্যতেও এগিয়ে নিয়ে সমৃদ্ধ করতে হবে। সে জন্য নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।

ড. আব্বাস ভায়েজি দেহনাভি বলেন, ইসলামের সঠিক আদর্শ তুলে ধরার জন্য আমাদের ইসলামী শরিয়াহ অনুসরণ করতে হবে এবং সেই তরিকা মোতাবেক জীবন গড়ে তুলতে হবে। ইসলামকে অনুসরণ করার জন্য আমাদের অবশ্যই আকিদাকে সুন্দর করতে হবে। তিনি বলেন, জীবজন্তু স্বাভাবিকভাবেই জীবজন্তু কিন্তু মানুষকে মানুষ হতে হয়। আর এর জন্য সুফিবাদের শিক্ষা অনেক ফলপ্রসূ।

 

"