কলকাতার সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’

বঙ্গবন্ধু স্মারক সম্মাননা পাচ্ছেন অমর্ত্য সেন

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

জাতির জনকের নামাঙ্কিত বঙ্গবন্ধু স্মারক সম্মাননা পাচ্ছেন নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন। ভারতের কলকাতার সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’ আগামী বছর এই সম্মাননা দেবে। পত্রিকাটির সম্পাদক মানিক দে জানান, ইতোমধ্যে নোবেলজয়ীর সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। প্রাপকের সুবিধামতোই একটা তারিখ চূড়ান্ত হবে বলেও জানান মানিক দে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতার বাংলা একাডেমি সভাগৃহে আয়োজিত এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কবি ও প্রাক্তন আকাশবাণী প্রধান পঙ্কজ সাহা। এরপর সঞ্চালক যার নামের এই পুরস্কার সেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করা হয় তার ছবিতে ফুলের মালা দিয়ে। সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’ এবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামাঙ্কিত ‘বঙ্গবন্ধু স্মারক’ পুরস্কার দিয়েছে প্রখ্যাত জাদুশিল্পী পি সি সরকার জুনিয়রকে। তবে ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি পি সি সরকার জুনিয়র। তবে এই প্রখ্যাত জাদুশিল্পীর হয়ে তার ছোট মেয়ে টালিগঞ্জের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মমতাজ সরকার সম্মাননা গ্রহণ করেন। বাবার সম্মাননা হাতে নিয়ে আবেগতাড়িত মমতাজ কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, বাবার মতো হতে চাই। তবে সেটা হতে পারব কি না জানি না।

এবার বঙ্গবন্ধু স্মারক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর। অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী মমতা শঙ্করের হাতে বঙ্গবন্ধু স্মারক পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় এক আবেগতাড়িত মুহূর্তের অবতারণা হয়। কবি পঙ্কজ সাহা মমতা শঙ্করের মানবিক মুখের নানা তথ্য প্রকাশ করেন। যা শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন সম্মাননার এই প্রাপক। কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের প্রথম সচিব মোফাকখারুল ইকবাল মমতা শঙ্করকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধুর নামের সম্মাননা পাওয়াটা ঈশ্বরের কৃপা ছাড়া কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেন মমতা শঙ্কর। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মানুষ যার মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস সারা পৃথিবীজুড়ে সমাদৃত সেই মানুষের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা এবং সম্মান রয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতি বছরের নানা শিরোনামের এমন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা সামিয়া রহমান এবং বাংলাদেশের আবৃত্তিকার সীমা ইসলামও। তারা যথাক্রমে পেয়েছেন ‘চোখ সাহিত্য পুরস্কার’ এবং ‘বিজয় স্মারক সম্মাননা’। এই পুরস্কার পেয়ে অভিভূত সামিয়া রহমান বলেন, দুই বাংলার মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন যতই থাকুক না কেন, আসলে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। এই ধরনের সম্মাননা আগামীতে আরো দায়িত্ব বাড়াবে বলেও মনে করেন সামিয়া রহমান। বিজয় স্মারক সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের আবৃত্তিকার সীমা ইসলাম। তার ভাষায়, এটা আমার জীবনের একটা অন্যতম বড় ঘটনা হয়ে থাকবে।

গত ১৮ বছর ধরে সাহিত্য পত্রিকা ‘চোখ’ বাংলাদেশ ও ভারতের বিশিষ্টজনদের বঙ্গবন্ধুর নামের এই স্মারক পুরস্কার দিয়ে আসছে। এই সম্মানা পেয়েছেন দুই বাংলার দুই গুণী কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও কবি শামসুর রাহমান ছাড়াও বহু কবি-সাহিত্যিক অভিনেতা-অভিনেত্রী।

পত্রিকার সম্পাদক মানিক দে জানান, আগামীতে এই সম্মাননা দিতে চান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেও। ইতোমধ্যেই তাদের পুরস্কার কমিটি এই ধরনের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। খুব শিগগিরই তারা আনুষ্ঠাকিভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানাবেন। আর আগামী বছর বঙ্গবন্ধু স্মারক সম্মাননা দেওয়া হবে অর্থনীতিবিদ নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. অমর্ত্য সেনকে। এটাও অনুষ্ঠান থেকে ঘোষণা করা হয়।

 

"