নারিকেল তেল ‘খাঁটি বিষ’ বলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জার্মানিতে গত মাসে খাদ্য পুষ্টির ওপর এক আলোচনায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কারিন মিশেলস খাবার তৈরিতে নারিকেল তেলকে ‘খাঁটি বিষ’ বলে যে মন্তব্য করেছিলেন তা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার ডাক উঠেছে। ত্বক, চুল এমনকি সুস্বাস্থ্যের জন্যও আদর্শ উপাদান হিসেবে সুপরিচিত নারিকেল তেল। তবে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএ) ২০১৭ সালে নারিকেল তেলকে হৃদরোগের জন্য দায়ী করে সতর্কবাণী দেয়।

কারণ হিসেবে বলা হয়, নারিকেল তেলে আছে প্রচুর পরিমাণে ‘স্যাচুরেইটেড ফ্যাট’। তাই হৃদ স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নারিকেল তেল না খাওয়াই ভালো বলে পরামর্শ দেয় হার্ট অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু কারিন মিশেলস আরো একধাপ এগিয়ে বলেন, ‘নারিকেল তেল ‘খাঁটি বিষ’ এবং এর চেয়ে খারাপ খাবার আর হয় না।’ তার মতে, নারিকেল তেলে প্রচুর পরিমাণে ‘স্যাচুরেইটেড ফ্যাটি এসিড’ থাকে, যা ধমনিতে রক্ত প্রবাহ আটকে দিতে পারে। নারিকেল তেলকে একটি অন্যতম বাজে খাবার হিসেবে আখ্যায়িত করে সতর্ক করেন এই অধ্যাপক। তার এ লেকচার সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে ইউটিউবে। কিন্তু ‘কোকোনাট অ্যান্ড আদার নিউট্রিশনাল এরোরস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় কথাগুলো বলার সময় মিশেলস সম্ভবত ভুলেও ভাবেননি তার মন্তব্যে এমন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

নারিকেল তেল নিয়ে তার ওই মন্তব্যের পরই ভারত পাল্টা কামান দাগার সিদ্ধান্ত নেয়। দক্ষিণ ভারতে নারিকেল তেল খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে কেরালায়। দক্ষিণের এলাকাগুলোতে নারকিল তেল ছাড়া চলে না। রান্না থেকে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে সেখানে নারকিল তেল অপরিহার্য। এ কারণেই মিশেলসের মন্তব্য ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কদিন আগে যে ভয়াবহ বন্যা দক্ষিণের রাজ্য কেরালাকে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে, সেই কেরালার নামও এসেছে নারিকেল গাছ থেকে। স্থানীয় পরিভাষায় দক্ষিণ ভারতের এ রাজ্যটির নাম ‘নারিকেল গাছের ভূমি’।

মিশেলসের মন্তব্যকে ‘অপ্রমাণিত ও অবিবেচনাপ্রসূত’ আখ্যা দিয়ে হার্ভার্ডের ‘টি এইচ কান স্কুল অব পাবলিক হেলথ’-এর ডিনের কাছে ই-মেইল করেছেন ভারতের হর্টিকালচার কমিশনার বিএন শ্রীনিবাসা মূর্থি। ডিনকে এ বিষয়ে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং মিশেলসের মন্তব্যটি প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ‘মিশেলস শতকোটি মানুষের কাছে পূজনীয় শস্য নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেছেন,’ লিখেছেন মূর্থি। মিশেলসের মন্তব্য নিয়ে হার্ভার্ডের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করে চিঠি লেখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কেরালার কৃষিমন্ত্রী ভি এস সুনীল কুমারও। ‘আমাদের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা বলে নারিকেল তেল মোটেও বিষাক্ত নয়। নারিকেল ছাড়া কেরালায় কোনো জীবন নেই। এটাই সত্যি,’ বলেছেন তিনি।

"