বিবাহিতরা ব্যাচেলর : সরকারি ভাড়ার কোটি টাকা ফাঁকি!

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

দেশের সর্ববৃহৎ ও একমাত্র দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) বছরে কোটি টাকার ওপরে বাসা ভাড়া আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। পরিবারসহ বসবাসের জন্য নির্ধারিত আবাসিক ভবন থাকলেও তা ব্যবহার না করে কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে অসাধু কর্মকর্তারা টাকা বাঁচাতে বছরের পর বছর ব্যাচেলর ভবন ব্যবহার করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। জেএফসিএল সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প কারখানা করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন যমুনা সার কারখানা কেপিআই-১ এটি একটি মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। এখানে কর্মরত কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য সার্বক্ষণিক কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। বিবাহিতদের পরিবার নিয়ে বসবাসের জন্য বেশ কয়েকটি নির্ধারিত ভবনের পাশাপাশি একটি ব্যাচেলর ভবনও রয়েছে। আবাসিক বাসভবনগুলোতে পরিবারসহ বসবাসের জন্য মূল বেতনের ৪০ শতাংশ বাসা ভাড়া গুনতে হয় কর্মকর্তাদের। আর ব্যাচেলর ভবনে দিতে হয় মাত্র ৫ শতাংশ। মাসিক ভাড়ার অনেকগুলো টাকা বাঁচাতে কারখানা প্রশাসনের যোগসাজশে অসাধু কর্মকর্তারা নির্ধারিত ভবন ছেড়ে ব্যাচেলর ভবনকেই বেছে নিয়েছেন। অথচ ফ্যামেলি কোয়ার্টারের (ডি-টাইপ ভবন) ৫২টি বাসা খালি পড়ে রয়েছে। যার প্রতিটি সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাড়া আদায় হতো। তা না হওয়ায় সরকার প্রতি বছর বঞ্চিত হচ্ছে কোটি টাকার ওপর। দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রকাশ্য এ অনিয়ম দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাচেলর ভবনের নিচ তলার অতিথি কক্ষটি ৩ বছর ধরে সস্ত্রীক দখল করে আছেন কারখানার নির্মাণ কর্মকর্তা আবদুল মজিদ। তার মাসিক ভাড়া মাত্র এক হাজার টাকা দিতে হয়। এ ব্যাপারে আবদুল মজিদ জানান, ‘স্ত্রী নিয়ে বসবাস করলেও কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যাচেলর হিসেবেই রুম বরাদ্দ দিয়েছে। ইতোপূর্বে তিনি ডি-টাইপ ভবনে মাসিক ১২ হাজার টাকায় বসবাস করতেন, খরচ বাঁচাতেই তিনি এখানে উঠেছেন।’ চতুর্থ তলায় গিয়ে জানা যায়, একাউন্টস বিভাগের কর্মকর্তা সৈয়দ এরশাদ বিন ইকবাল ৪০৯ নম্বর বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে টানা ৮ বছর ধরে বসবাস করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়েছে থাকি, আর কিছু বলতে পারব না।’

পুরো ব্যাচেলর ভবন ঘুরে দেখা যায়, নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা সাজেদুল কবীর (বাসা নম্বর ৪০২), ইউটিলিটি বিভাগের নাসির উদ্দিন (বাসা নম্বর ৪০৪), মোজাম্মেল হক (বাসা নম্বর ৪০৭), ইউরিয়া প্লান্টের নিজাম উদ্দিন (বাসা নম্বর ৪১৭), সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মুখলেছুর রহমান (বাসা নম্বর ৪১৯), রাশেদুল ইসলাম (বাসা নম্বর ৪২০), একাউন্টসের রফিকুল ইসলাম (বাসা নম্বর ৩০৫), ইউরিয়ার শাহাদাত হোসেন (বাসা নম্বর ৩১০), অ্যামোনিয়া প্লান্টের অর্জুন কুমার রায় (বাসা নম্বর ৩১৮), উপসহকারী প্রকৌশলী খন্দকার বাশিউল হক (বাসা নম্বর ১০২), ইউটিলিটির মশিউর রহমান (বাসা নম্বর ১০৪), ব্যাগিংয়ের সালাউদ্দিন (বাসা নম্বর ১০৫) ও ফজলুল হকসহ (বাসা নম্বর ১০৯)Ñ এ রকম অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা অবৈধভাবে ব্যাচেলর বাসায় বসবাস করছেন। বারান্দাগুলোতে কর্মকর্তাদের কাপড় রোদে শুকাতে এবং সন্তানদের ব্যবহার্য সামগ্রী এবং খেলনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের প্রতিটি কক্ষে টিভি-ফ্রিজসহ নানা জিনিসপত্র ভরে পুরো পারিবারিক ভবনে পরিণত করেছেন। তাদের কেউ কেউ ১০ বছর ধরে বসবাস করছেন। যমুনা সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আ ন ম শরীফুল আলম এ ব্যাপারে বলেন, ‘বিষয়টি অনিয়ম হলেও মানবিক বিবেচনায় থাকতে দেওয়া হয়েছে। তারা পরিবার নিয়ে থাকলেও ব্যাচেলর হিসেবেই অনুমতি রয়েছে। বিসিআইসির সব প্রতিষ্ঠানেই এই অবস্থা।

"