প্রতিদিনের সংবাদকে এমপি সালাম মুর্শেদী

শাসক নই, জনগণের সেবক হতে চাই

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে আসা খুলনা-৪ আসনের নবনির্বাচিত এমপি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, আমি শাসক হতে চাই না, জনগণের সেবক হয়ে রাজনীতি করতে চাই। কারণ রাজনীতি আমার জীবনের তৃতীয় অধ্যায়; সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এখানেও সফল হতে চাই। এর আগে ফুটবলার ও ব্যবসায়ী হিসেবে তার সফলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন এই নবনির্বাচিত এমপি।

জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অফিস কক্ষে এমপি হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার শপথ নেন। এ শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার। পরে প্রতিদিনের সংবাদসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেন ক্রীড়া জগতে ও ব্যবসায়ী হিসেবে সফল এই নবীন রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, গত ৩ মার্চ খুলনার সার্কিট হাউস মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সমাবেশে আমাকে রাজনীতিক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এই দিনটি ছিল আমার জন্য স্মরণীয়। এ দিনের পর থেকে ভবিষ্যৎ জীবনের নতুন স্বপ্ন বাস্তবায়নের কর্ম-পরিকল্পনা নির্ধারণ শুরু করি। আর প্রয়াত এমপি ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোস্তফা রশিদী সুজার রেখে যাওয়া শূন্য আসনে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়ে স্বপ্নপূরণের নতুন অধ্যায় রচিত হয়। সাবেক সফল ক্রীড়া-ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী মুর্শেদী তার অগ্রজের রেখে যাওয়া অবদানের কথা ভুলেননি। তিনি বলেন, প্রয়াত এমপির শূন্য জায়গা পূরণ করা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে, তার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই। কারণ আমি শাসন হতে চাই না; জনগণের সেবক হতে চাই।

ক্রীড়া এবং ব্যবসায়ী জগতে যেমন সফল হয়েছি, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে এবং তাদের সহযোগিতা নিয়ে এখানেও সফল হতে সর্বদা সচেষ্ট থাকব; যোগ করেন দশম জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এই রাজনীতিক। আগামী রোববার চলতি সংসদের সম্ভাব্য শেষ অধিবেশন শুরু হবে; এখানেই তার অভিষেক হবে নির্বাচিত এমপি হিসেবে।

বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সালাম মুর্শেদী বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন। মনোনয়ন দিয়ে বিজয়ী করে এনেছেন। এর জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান রাখা ও ভিশনারি এই নেত্রীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। কারণ বড় পরিসরে জনগণের সেবা করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন তিনি।

চলতি সংসদের শেষলগ্নে এসে হয়তো মানুষের প্রত্যাশানুযায়ী অনেক কিছু করতে পারব না, তবে প্রয়াত এমপি সুজা সাহেবের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করব, যোগ করেন ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে অভিষেক হতে যাওয়া এই এমপি। বলেন, সুজা ভাই দুঃখী মানুষের পাশে ছিলেন; অগ্রজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। এর জন্য স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা চাই।

আগামীতে জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে বৃহত্তর খুলনার উন্নয়নে আমার কি পরিকল্পনা থাকবে তার একটি রূপরেখার কথা জানিয়ে এই এমপি বলেন, ‘স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি’ একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। এর মধ্যে প্রথমে নিজ নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে শহরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে একটি ব্রিজ স্থাপন করা হবে। কারণ পদ্ম সেতুর কাজ শেষ হলে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল যোগাযোগ স্থাপন হবে। তখন মোংলা বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে।

তিনি বলেন, খুলনাকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এতদিন উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত ছিল, উন্নয়নের ক্ষেত্রে যা কিছু দৃশ্যমান হয়েছে তার শতভাগ স্বীকৃতির দাবিদার বর্তমান সরকার। এই অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের বোর্ডকে খুলনায় মিটিংয়ের জন্য আহ্বান জানানো হবে। যাতে বিনিয়োগে এই শহরটি কতটুকু সম্ভাবনাময় তা তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হবে।

নবনির্বাচিত এই এমপি আরো বলেন, খুলনায় শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পুরনো শিল্প-কারখানাকে পুনরায় চালু করা হবে। দেশি-বিদেশিদের এখানে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা থাকবে তার; কারণ প্রধানমন্ত্রীর সোনার বাংলা গড়তে আমরা সবাই বদ্ধপরিকর।

ব্যবসায়ী সালাম মুর্শেদী তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমি স্থানীয় জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি; তারা যেন নিজ সম্পতি বিক্রি না করেন। কারণ আগামী ১০ বছরে এ শহরেও হোটেল-মোটেল হবে। বিনিয়োগের অবাধ সম্ভাবনার কারণে মানুষের ভাগ্যের বদল ঘটবে। তার এই আহ্বানে স্থানীয় জনগণ সাড়া দেওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই এমপি।

নিজের অতীত জীবনের কথা উল্লেখ করে সালাম মুর্শেদী বলেন, ৭০’র দশকে ফুটবলের টানে খুলনা ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় পাড়ি জমান। সে সময় আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ঢাকা সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লীগে আমার নতুন যাত্রা শুরু হয়। পরে মোহামেডানের হয়ে ফুটবলের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২৭ গোল করি, যা এখনো অম্লান। এমনকি বিজিএমইএর সভাপতি হয়ে সেখানেও সফল হই। আমার পরিবার কর বাহাদুর পরিবারের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তৃতীয় এই মিশনে নেমেছি; রাজনীতির এই মাঠেও সফল হতে সর্বদা সচেষ্ট থাকব, যোগ করেন অতীতে সর্বক্ষেত্রে সফল এই মানুষটি।

এর আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অফিস কক্ষে তার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া। এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ মো. শাহাব উদ্দিন, মোছা. মাহবুব আরা বেগম গিনি এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য মো. মোল্লা জালাল, খুলনা জেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মো. হাবিবুল্লাহ ডন উপস্থিত ছিলেন।

"