রাজশাহীতে এবার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী

রাজশাহীতে এবার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন মামুন-অর-রশিদ নামের এক ব্যবসায়ী। আর ওই নারী মহিলা-বিষয়ক অধিদফতরের কর্মকর্তা, তার নাম সালমা পারভীন। মামুনের অভিযোগ, তার স্ত্রী একজন দুর্নীতিগ্রস্ত নারী। দুর্নীতি করে তিনি রাজশাহী শহরে আট তলা ভবন বানিয়েছেন। তবে সালমা পারভীনের দাবি, তিনি মামুনকে তালাক দিয়েছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

মামুন-অর-রশিদের বাড়ি রাজশাহী নগরীর দাসপুকুর এলাকায়। ‘স্মীতা ট্রেডিং’ নামে তার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আছে। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর বহরমপুর এলাকায় মামুন তার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সালমা পারভীনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। সালমা পারভীন মহিলা এখন সংযুক্তিতে অধিদফতরের জেলা মহিলা সহায়তা কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কর্মরত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মামুন বলেন, ২০১১ সালের ১৪ জুন তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে সালমা পারভীনকে বিয়ে করেন। এটি সালমা পারভীনেরও দ্বিতীয় বিয়ে। তাদের ছয় বছরের একটি মেয়ে আছে। বিয়ের পর তারা ভাড়া বাড়িতে একসঙ্গেই বসবাস করতেন। এ বছরের ১৪ মে হঠাৎ সালমা নিখোঁজ হন। এ নিয়ে সেদিন তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, সালমা পারভীন আত্মগোপন করে আছেন। ২৮ মে মামুন থানা থেকে জানতে পারেন, ১৪ মে তার স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছেন।

মামুন বলেন, গতকাল বুধবার পর্যন্ত তিনি তালাকের কাগজপত্র পাননি। তাই আইনত তারা এখননো স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু বাড়ির ফার্নিচার নিয়ে গিয়ে সালমা পারভীন এখন তার প্রথম স্বামী ফকরুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করছেন। যদিও এর আগে সালমা ফকরুলকে তালাক দিয়েছিলেন।

মামুন জানান, নির্যাতনের অভিযোগে সম্প্রতি সালমা তার বিরুদ্ধে দুটি ‘মিথ্যা’ মামলাও দায়ের করেছেন। এ কারণে তিনি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মামুন বলেন, ফকরুল ইসলাম ব্যাংকে চাকরি করেন। কিছুদিনের মধ্যেই অবসরে যাবেন। প্রায় ৫০ লাখ টাকা পেনসন পাবেন। এই টাকার লোভে সালমা তাকে ছেড়ে ফকরুলের কাছে গেছেন। মেয়েকে জোর করে আটকে রেখেছেন।

লিখিত বক্তব্যে মামুন অভিযোগ করেন, অফিসে দুর্নীতি করে সালমা পারভীন নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় একটি আট তলা ভবন বানিয়েছেন। দুর্নীতির টাকায় জমিও কিনেছেন। সালমা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে কয়েক কোটি টাকা ঋণও করিয়েছেন। সে ঋণের সুদ তাকে টানতে হচ্ছে। এই নারীর কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। ঈদ করতে হয়েছে কারাগারে। সংবাদ সম্মেলন থেকে মামুন তার স্ত্রীর দুর্নীতি তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালমা পারভীন বলেন, আমি ছাত্রী থাকা অবস্থায় নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বুটিকের ব্যবসা করেছি। আমার উদ্যোগ দেখে ২০০১ সালে এক মন্ত্রী ডেকে নিয়ে গিয়ে চাকরি দিয়েছিলেন। সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে ভবন বানিয়েছি। ব্যাংক থেকে ঋণও করতে হয়েছে। কখনো দুর্নীতি করিনি।

সালমা পরভীন বলেন, প্রথম স্বামী ফকরুল ইসলামের সঙ্গে আমার ২০ বছরের সংসার। মামুনের কারণে সেই সংসার ভেঙেছে। মামুন তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু নির্যাতনের কারণে আমি তাকে তালাক দিয়েছি। মামলা করেছি। এখন একাই বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করছি। পেনসনের টাকার লোভে আগের স্বামীর সঙ্গে বসবাসের দাবি অসত্য বলেও জানান সালমা।

এদিকে, সালমার বিরুদ্ধে তোলা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা মহিলা সহায়তা কর্মসূচির উপ-পরিচালক রনী খাতুন বলেন, ‘গত মার্চে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। সালমা পারভীনের দুর্নীতির প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"