বিরল রোগে আক্রান্ত ছাত্রীর চিকিৎসায় সাহায্য প্রার্থনা

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় বিরল রোগে আক্রান্ত কলেজছাত্রী মোহাজেরিন খাতুন (১৮) সুস্থ হয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে চান। কিন্তু তার শরীরে রয়েছে অজানা রোগ। এই রোগের কারণে মোহাজেরিনসহ তার পুরো পরিবার রয়েছে দুশ্চিন্তায় ও আর্থিক অনটনে। পরিবারের সদস্যরা বলেছেন মোহাজেরিনের চোখ, নাক ও কান দিয়ে রক্ত পরে। রক্ত পড়ার সময় তার হাত, পা কাঁপে। প্রায় ১ মিনিট সময় ধরে রক্ত পড়ার পর তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। বিরল রোগে আক্রান্ত এই শিক্ষার্থীর পরিবার তার চিকিৎসা খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ কারণে তারা দেশের হৃদয়বান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। তাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার হিসাব নং জনতা ব্যাংক মোহসিনা আকতার ০১০০১১০৭১৯৩২৩।

মোহাজেরিনের বোন মোহসিনা আকতার জানান, তার বাবা মোতাহার হোসেন স্বর্ণ শিল্পের কাজ করেন। সামান্য আয় দিয়ে তিন বোন ও এক ভাইয়ের সংসার। বগুড়া শহরের ধরমপুর পূর্ব পাড়ায় তাদের বসবাস। তার মা রোকেয়া বেগম গৃহিণী। চোখ দিয়ে রক্ত পড়ে প্রায় ৪০ সেকেন্ড থেকে ৬০ সেকেন্ড এর মতো। রক্ত মুছে দেওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকে রক্ত আসা বন্ধ হয়ে যায়। রক্ত আসার সময় তার বোন প্রথম দিকে খুব ভয় পেলেও এখন ভয় কিছুটা কমেছে।

মোহাজেরিন খাতুনের মা রোকেয়া বেগম জানান, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মোহাজেরিনের চোখ, নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত আসে। রক্ত বের হওয়ার পরই সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ওই দিন সে একটি বিয়ের বাড়িতে ছিল। তখন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে থাকাকালে তার চোখ মুখ দিয়ে আর রক্ত আসেনি।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাপাতালের চিকিৎসকরা বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষার পর রোগের ব্যাপারে কিছু বলতে না পেরে পরের দিন হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়। এর প্রায় এক মাস পর আবার চোখ কান ও নাক দিয়ে রক্ত ঝড়লে আবারও হাসপালে নেওয়া হয় মোহাজেরিন খাতুনকে। সেবারও ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। এরপর ডাক্তাররা তার কোন রোগ ধরতে না পেরে তাকে আর ভর্তি করেনি।

বগুড়ার ডাক্তারদের দেখালে তারা হাজার হাজার টাকার পরীক্ষায় করায় কিন্তু আরোগ্য করতে পারেনি এই ছাত্রীকে । কোনো ডাক্তার বলেন তার টেনশন থেকে এমন হয়। কেউ আবার বলেন রক্তের চাপ বেশি। কিন্তু মোহাজেরিনের রোগ ভালো হচ্ছে না। সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট তার চোখ, নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। সে বগুড়া পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। সে লেখাপড়ায় আগ্রহী। জমি, গরু বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছে তার পরিবার। কিন্তু এখন আর তার চিকিৎসা ব্যয় পরিবার বহন করতে পারছে না। তার চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে চার লাখ টাকা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তাকে চিকিৎসা করোনোর জন্য ভারতে নিয়ে যেতে চান পরিবারের সদস্যরা। এ কারণে এই ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার। ছাত্রিটির পরিবার, প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনরাও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে।

"