কালের সাক্ষী তেঁতুলগাছ

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

জোনাহিদ হাসান সাগর, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)

তেঁতুলের নাম নিলেই অনেকের জিভে পানি আসে। এই খবর কালের সাক্ষী এক তেঁতুলগাছ নিয়ে। ২৫০ বছরেরও বেশি পুরনো তেঁতুলগাছ এটি। সুস্বাদু ও টক জাতের তেঁতুলগাছটি ডালপালা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বেশখানিকটা জমি দখল করে রেখেছে। এই বিশাল গাছের কথা ১০ গ্রামের মানুষ জানে। এই গাছের সঙ্গে মিশে আছে এলাকার নানা লোকগল্প ও কল্পকাহিনি। গাছটিকে এক নজর দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন ছুটে আসে অনেক মানুষ।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী গ্রামের বেলাই বিলপাড়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তেঁতুলগাছটি। আর একে নিয়ে স্থানীয়ভাবে রয়েছে নানা মুখরোচক গল্প। বৃহৎ এ গাছটির নিচে প্রতিদিন নানা বয়সী মানুষ শীতল হাওয়ায় প্রাণ জুড়ায়। গাছটির পাশেই ফুলদী গ্রামের সামাজিক ঈদগাহ, ফুলদী গাউসিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা, ফুলদী হাফিজিয়া মাদরাসা ও ফুলদী জামে মসজিদ। দূর থেকে গাছটি দেখে কখনো মনে হতে পারে এটি একটি বটগাছ। আবার কখনো মনে হতে পারে এটি একটি বিশাল তেঁতুল বাগান। তবে কাছে যেতেই এসব ধারণার বিপরীত চিত্র দেখা যাবে। একটি তেঁতুলগাছ থেকেই বের হওয়া ডালগুলো চারদিকে ছড়িয়ে বিশাল আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিশাল তেঁতুলগাছটির মোটা ডালগুলো আশপাশের জমিতে ছড়িয়ে আছে। প্রতি বছর গাছটিতে তেঁতুলও হয় মোটামুটি ভালো। স্থানীদের সুবিধার্থে তামান সরকার নামের এক সৌদি প্রবাসীর অর্থায়নে গাছটির চারপাশে ইট-বালু-সিমেন্ট দিয়ে পাকাকরণ করা হয়েছে। এখন এই গরমে তেঁতুলগাছের নিচে বসে স্থানীয়রা বিশ্রাম করতে পারেন অনায়াসে। পাশের ঈদগাহ মাঠে শিশু-কিশোর-তরুণরা ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত। একদল ফিল্ডিং করলে অন্যদল ওই গাছের নিচেই বিশ্রাম নেয়।

ফুলদী গাউসিয়া সুন্নিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সুপার মাওলানা মো. বাহাউদ্দিন (৫৮) বলেন, প্রতিদিনই পুরনো ওই গাছটিকে দেখতে হেঁটে, রিকশা ও মোটরসাইকেলে অনেক মানুষ আসে। তবে মূল সড়ক থেকে স্পটটি একটু ভেতরে হওয়ায় এখানে কোনো দোকানপাট গড়ে উঠেনি।

তিনি বলেন, ২০ বছর আগে তার চাচা শাহাজউদ্দিন সরকার ১১৫ বছর বয়সে মারা যান। আর গাছ সম্পর্কে তিনি তার ওই চাচার কাছ থেকেই শুনেছেন। তার চাচা আবার তার দাদার কাছ থেকে। এভাবেই ২৫০ বছরেরও বেশি সময় কালের সাক্ষী হয়ে আছে ফুলদীর ওই তেঁতুলগাছ। তবে তিনি দাবি করেন গাছের বয়স এরচেয়ে বেশি ছাড়া কম হবে না। গাছটির বর্তমান মালিক স্থানীয় ঈদগাহ কর্তৃপক্ষ। তবে গাছটি কে বা কারা রোপণ করেছেন, তা তিনি বলতে পারেননি। এক সময় পুরো এলাকাটি জঙ্গল ছিল। তাই তার ধারণা, এটি এমনিতেই জন্মাতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ওই গাছটি নিয়ে অনেক গল্প শোনা যায়। এর মধ্যে লোকমুখে শোনা যেত ‘সাদা পোশাক পরিহিত হয়ে বেলাই বিলের পানির ওপর দিয়ে হেঁটে গাছটির পশ্চিম পার্শ্বে কে বা কারা নামাজ আদায় করত। আর তখন সব এলাকায় ফুলের সুবাস ছড়াত’। এ ছাড়াও গাছটির পাশে একটি পুকুর কাটানোর সময় সেখানে গাছের শেকরের বড় বড় শাখা পাওয়া গেছে।

"