রক্ষা পেল ধরলায় ধরা পড়া ডলফিন

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম

বর্ষা শেষের প্রায় নিস্তরঙ্গ ধরলায় গত মঙ্গলবার বিকালে কয়েকজন জেলের জালে হঠাৎ ধরা পড়ে একটি বিরল প্রজাতির ডলফিন। জেলেদের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকায় ডলফিনটি কিনে নেয় কয়েকজন যুবক। এরপর নেওয়া হয় জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ছিনাই বাজারে। এরমধ্যে কেটে গেছে কয়েক ঘণ্টা, পানি ছাড়া তখনো জীবন্ত ছিল ডলফিনটি। বাজারে যেকোনো মুহূর্তে তা কেটে ফেলা হতে পারে। এদিকে, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ছুটে যান রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল হক প্রধান। তার হস্তক্ষেপে বেঁচে যায় ডলফিনটি।

ছিনাই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য সোবহান আলী ব্যাপারী ও স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় ইউএনও ছিনাই বাজারে উপস্থিত হয়ে ডলফিন ক্রয়কারী যুবকদের বুঝিয়ে ডলফিনটি দ্রুত পানিতে রাখার ব্যবস্থা করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর পানি পেয়ে কাতর ডলফিনটি যেন প্রাণ ফিরে পায়। স্বল্প পানিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য স্থানীয় যুবকরা পানিতে অনবড়ত নাড়া দিতে থাকেন। এরই মধ্যে ইউএনও যোগাযোগ করেন রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।

খবর পেয়ে গাড়ি ও জনবল নিয়ে ছুটে আসে রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে কেটে যায় প্রায় ৮ ঘণ্টা। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রথমেই ডলফিনটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

ডলফিন পরিবহনের গাড়িতে পানি ভর্তি করা হয়। রাত ১২ টার দিকে স্থানীয় যুবকরাই পরম মমতায় ডলফিনটিকে কোলে করে রংপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের গাড়িতে তুলে দেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মো. জসিম উদ্দিন জানান, দীর্ঘক্ষণ পানির বাইরে থাকা এবং ভ্যান গাড়িতে করে বেঁধে পরিবহনের ফলে ডলফিনটি দুর্বল হয়ে গেছে। এটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

ডলফিনটি সম্পর্কে জানতে চাইলে রংপুর চিড়িয়াখানার এই ডেপুটি কিউরেটর বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের প্রাণীর এটিই প্রথম কালেকশন। এটি শুধু রংপুর চিড়িয়াখানা নয়, আমার জানা মতে, এটি দেশের কোনো চিড়িয়াখানাতেই নেই। আমরা এর বিষয়ে এই মুহূর্তে তেমন কিছু বলতে পারছি না।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ডলফিনটি রংপুর চিড়িয়াখানার লেকে ছেড়ে দেব। ডলফিনটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

জেলেদের কাছে ডলফিনটি কিনে নেওয়া যুবকদের মধ্যে মো. ঈদুল মিয়া জানান, ইউএনও স্যার আমাদের বুঝিয়ে বললে আমরা বুঝতে পারি ডলফিনটি অবমুক্ত করা উচিত। আমরা ডলফিনটি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সম্মতি দিই।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাশেদুল হক প্রধান জানান, এটি একটি বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী। এমন জলজ প্রাণীদের টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। যুবকরা যে টাকার বিনিময়ে জেলেদের কাছে ডলফিনটি ক্রয় করেছিল তা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন ইউএনও।

"