সন্ত্রাস দমন অভিযান

বিএনপি-জামায়াত-জেএমবির ৩১ সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

দেশের কয়েক স্থানে সন্ত্রাস দমন অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। এতে ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক। পুলিশের দাবি গ্রেফতাররা বিএনপি-জামায়াত ও জেএমবির সদস্য। তারা নাশকতার ষড়যন্ত্র করেছিল বলে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

মেহেরপুর : মেহেরপুরের গাংনীতে ১৩টি হাতবোমা এবং ৬০টি পটকাসহ বিএনপি জামায়াতের ২৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতাররা হলেন গাংনী পৌর এলাকার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত খয়ের উদ্দীনের ছেলে আক্তার হোসেন, মোঃ আজগর আলীর ছেলে মোঃ আহসানুল হক আমিনুল, গাড়াডোব পুকুরপাড় পাড়ার আবদুস কুদ্দুস আলীর ছেলে মিন্টু মিয়া ও রাহাতুল্লাহর ছেলে শের আলী, জমির উদ্দীনের ছেলে নজরুল ইসলাম, ভবানিপুর গ্রামের মোঃ আলী হোসেনের ছেলে রায়হান কবির, বেতবাড়িয়া গ্রামের মোঃ আবদুর রশিদের ছেলে রাশেদুজ্জামান রনি, হেমায়েতপুর গ্রামের মোঃ রবিউল ইসলামের ছেলে মোঃ জাফর ইকবাল (তরুণ), মোঃ আজমত আলীর ছেলে মইজউদ্দীন ও মৃত আনিছ উদ্দীনের ছেলে আঃ মজিদ, জালশুকা গ্রামের মোঃ শুকুর আলীর ছেলে সোনাহার হোসেন ও মৃত কমর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী, সাহারবাটি গ্রামের শুকুর উদ্দীনের ছেলে মোঃ আঃ খালেক, রাধাগোবিন্দপুর ধলা গ্রামের মৃত আতর আলীর ছেলে মোঃ বাবুল হোসেন ও আবদুল গফুর বিশ^াসের ছেলে মোঃ রেজাউল হক, নিশিপুর গ্রামের মৃত আইজ উদ্দীনের ছেলে শফিকুল ইসলাম, দেবিপুর গ্রামের মৃত রহিম বক্সারের ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম, কাজিপুর গ্রামের মৃত আঃ জলিলের ছেলে খবির উদ্দীন, কোদাইলকাটি গ্রামের মোঃ হাউস আলীর ছেলে মোঃ জাকারিয়া, তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত হাজী মোহাম্মদ সেকেন্দার মন্ডলের ছেলে জুলফিকার আলী যদু ও মোতালেব হোসেনের ছেলে মোশারফ হোসেন, করমদী গ্রামের মোঃ আকবর আলীর ছেলে আবদুল হামিদ এবং বাউট গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম।

গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্র নাথ সরকার জানান, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সেখানে এ সময় ১৩টি ককটেল ও ৬০টি পটকা পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি ম্লানে তারা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটানোর জন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

দুর্গাপুর : রাজশাহী দুর্গাপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিএনপি, জামায়াত ও শিবিরের কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে দুর্গাপুর পৌর এলাকার শ্রীপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন দুর্গাপুর পৌরসভার বহরমপুর গ্রামের যুবদল নেতা মৃত দায়েম উদ্দিনের ছেলে চয়েন উদ্দিন, শ্রীপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে জামায়াত কর্মী হায়দার আলী ও শিবির কর্মী শাহিনুর রহমান।

দুর্গাপুর থানার ওসি আবদুল মোত্তালেব জানান, শ্রীপুর গ্রামের জামায়াত নেতা হায়দার আলীর বাড়িতে সরকারবিরোধী নাশকতা পরিকল্পনা করছিল। এমন সংবাদের ভিত্ততে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। ওই অভিযানে বিএনপির এক নেতাসহ দুই জামায়াত-শিবিরের সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের কাছ থেকে ৩টি ককটেল, ৪টি পেট্রল বোমা ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

বগুড়া : বগুড়া পুলিশ ও পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের ইনটেলিজেন্স শাখার যৌথ অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছে পুরাতন জেএমবির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতাসহ সামরিক শাখার পাঁচ সক্রিয় সদস্য। গত মঙ্গলবার রাত দেড়টায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছে থেকে ১টি সচল বিদেশি ৭.৬৫ এম এম পিস্তল, ১টি সচল বিদেশি ৯ এম এম পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৩টি বার্মিজ ছোরা, ১ জোড়া হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা এবং ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের পুরনো জেএমবির সক্রিয় সদস্য। এদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ২ নেতাসহ ৫ সামরিক শাখার সদস্য রয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো জামালপুর জেলার বড়ইকুড়া গ্রামের মৃত লোকমান আলীর ছেলে শহিদুল্লাহ মাসুম, রাজশাহী বিভাগীয় ইছাবা (সামরিক) প্রধান রাজশাহী জেলার বেলপুকুরের আকবর আলীর ছেলে বুলবুল ওরফে সোহাগ, একই এলাকার একরামুল হকের ছেলে ইছাবা সদস্য মাসুদ রানা, রাজশাহী জেলার চারঘাট থানার আস্কোরপুর এলাকার শ্রী উৎপল হাজরার ছেলে নওমুসলিম আতিকুর রহমান সৈকত, একই এলাকার ইছাবা সদস্য মৃত আবু তালেবের ছেলে মিজানুর রহমান ওরফে দর্জি মিজান।

"