নবজাতকের সুরক্ষায় কাজ করছে নিউবর্ন হেলথ

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নবজাতকের (শূন্য থেকে ২৮ দিন বয়স) মৃত্যুহার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সফলভাবে এগোচ্ছে। এসডিজি অর্জনের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে নবজাতকের মৃত্যুহার প্রতি হাজারে ১২ জনে নামিয়ে আনতে হবে বাংলাদেশকে। সে জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর নিউবর্ন হেলথ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে, যার আওতায় চিকিৎসক-নার্সদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম জোরালোভাবে চলছে। কর্মসূচি সংশ্লিষ্টদের আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা অভীষ্ট অর্জন করতে পারবেন।

দি স্ট্যাটিসটিকস পোর্টালের তথ্যানুযায়ী, ২০০৬ সালে বাংলাদেশে প্রতি হাজার শিশু জন্ম নিলে মৃত্যু হতো ৪৮ জনের। ২০১৫ সালে এই হার ২৯ জনে এবং ২০১৬ সালে এই হার ২৮ জনে নেমে আসে। সুমাইয়া জামান নামে রাজধানীর ধানমন্ডির এক নারী সম্প্রতি মা হয়েছেন। আজিমপুর নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু করেছি। আগে থেকেই আমরা সতর্ক ছিলাম। সে জন্য আমাদের কোনো বিপদ হয়নি।’

রাজধানীর অন্য এক হাসপাতালে জন্ম নেওয়া আরো এক নবজাতক আজিমপুর নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাউন্সেলর শাহিনা আকতার বলেন, ‘নবজাতকের জন্মের আগে মায়ের বেশ কিছু বিপদচিহ্ন রয়েছে। আবার জন্মের পর শিশুরও বেশ কিছু বিপদচিহ্ন রয়েছে। এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক না থাকলে মা ও সন্তান উভয়ের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সে জন্য আমরা কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে গর্ভবতী মা ও তার পরিবারের সদস্যদের সচেতন করি।’

এ ব্যাপারে নিউবর্ন হেলথ প্রোগ্রামের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘চতুর্থ হেলথ, পপুলেশন এবং নিউট্রিশন সেক্টর প্রোগ্রাম (এইচপিএনএসপি) ২০২২ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।এ প্রকল্পের অধীনেই আমরা জাতীয়ভাবে নিউবর্ন হেলথ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। নবজাতকের সুরক্ষায় নতুন, বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত পদ্ধতিগুলোকে সমন্বয় করার জন্যই আমরা এই প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘গত বছরের জুলাই থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এটি চলবে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিরোধ সম্ভবÑএমন রোগে আক্রান্ত নবজাতকের মৃত্যু ঠেকানো।’ ডা. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘নিউবর্ন হেলথ প্রোগ্রামের অধীনে মায়ের প্রসবপূর্ব ও প্রসব পরবর্তী যতœ এবং শিশুর নিরাপদ জন্ম নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির ব্যবস্থা, ডেলিভারির পর নবজাতকের সাধারণ সেবা, তার বিপদচিহ্ন সম্পর্কে জানা এবং কী করতে হবে সেগুলো সম্পর্কে ধারণা দেওয়া ইত্যাদি কাজ করছি আমরা। যেসব নবজাতকের অবস্থা বেশি খারাপ হয় তাদের চিকিৎসার জন্য আমরা স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট (স্ক্যানু) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জেলা পর্যায়ের প্রত্যেক হাসপাতালে স্ক্যানু চালু করা হবে। সম্ভব হলে উপজেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও তা স্থাপন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘নবজাতকের সুরক্ষায় যেসব ওষুধ ও যন্ত্রপাতি অত্যাবশক সব হাসপাতালে তার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা কাজ করছি। এসব যদি আমরা ঠিকভাবে করতে পারি, তবে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’

"