চামড়ার দাম কমলে সংকটে পড়বে কওমি মাদরাসা

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে কোরবানির পশুর চামড়ার সরকার নির্ধারিত মূল্য কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে কওমি মাদরাসাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে অভিযোগ করেছে কওমি মাদরাসাগুলোর সংগঠন কওমি ফোরাম।

কওমি ফোরামের সমন্বয়ক মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে চামড়ার দাম কমার কারণে অনেক কওমি মাদরাসার আয় কমে যাবে, যার ফলে সেসব মাদরাসায় পড়ালেখা করা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখের মতো গবাদি পশু বিক্রি হয়েছে। মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন বলেন, ‘সাধারণ মানুষের দানের পাশাপাশি যাকাত, ফিতরা ও কোরবানির সময় দান করা চামড়া বিক্রির আয়ের ওপরই নির্ভরশীল অধিকাংশ মাদরাসার পরিচালনা ব্যয়।’ চামড়ার দাম কমার ফলে সেসব মাদরাসার কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাখাওয়াত হুসাইন।

তিনি বলেন, ‘কিছু মাদরাসা আছে যারা দানের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। তাদের ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি।’ ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছরই বাংলাদেশে চামড়ার সরকার নির্ধারিত মূল্য কমানো হয়েছে। চামড়ার দাম প্রতিবছর কমতে থাকায় এরই মধ্যে বহু ক্ষুদ্র মাদরাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কওমি ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ২০১৩ সালে সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণ যুক্ত গরুর চামড়া ৯০ টাকা পর্যন্ত দরে কেনা হয়। ঢাকার বাইরে তা ছিল ৮০ টাকা পর্যন্ত। এ বছর তা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা।

কওমি ফোরাম আরো বলেছে যে, সরকার ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বাংলাদেশের বাজারে সবসময় চামড়া বেশি দামে বিক্রি হয়। কিন্তু কয়েক বছর সরকার ঘোষিত মূল্যে তা বিক্রি করা যাচ্ছে না। তাদের দাবি এর কারণ হলো চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। অন্যদিকে, চামড়া পাচার হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।

তবে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, পশুর চামড়ার দাম কমানোর মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিশ্চিত করা। শাহীন আহমেদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া শিল্প পড়তির দিকে। তাই স্থানীয় বাজারে যদি বেশি দামে আমরা চামড়া কিনি তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের দাম বেশি হবে এবং বিক্রি কমে যাবে।’

চামড়াজাত পণ্যের রফতানি দিন দিন কমে যাওয়ায় পশুর চামড়ার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য শিল্পের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন শাহীন আহমেদ।

একই ধারণা পোষণ করেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাসলিমা মিজি, যিনি চামড়াজাত পণ্য তৈরি করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে থাকেন। তাসলিমা মিজি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম পড়তির দিকে, কাজেই চামড়ার দাম কমানোর সরকারি সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।’

তবে এই সিদ্ধান্তের সুফল পেতে সীমান্ত দিয়ে চামড়া চোরাচালান বন্ধে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন মিজি। তিনি বলেন, ‘ভারতে সম্প্রতি গরু জবাই করার বিষয়ে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় চোরাচালান করা চামড়ার চাহিদা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই চামড়ার সিংহভাগই পাচার হয় বাংলাদেশ থেকে।’ তালসিমা মিজি মনে করেন সরকারিভাবে চামড়ার দাম কমানোর ফলে চামড়া চোরাচালানকারীরা বেশি দামে ভারতে চামড়া পাচার করতে আগ্রহী হবে।

"