দ্রুত এগোচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্রুত এগোচ্ছে পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ শেষ হয়েছে। টাওয়ার বসানোর কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। পাশাপাশি সঞ্চালনের বিকল্প হিসেবে ট্রান্সফরমার বসাচ্ছে পিজিসিবি। জানা গেছে, প্রথম ইউনিটের সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের কনক্রিটিং, কুলিং টাওয়ার, চিমনি, জেটি নির্মাণসহ অন্য সব অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। প্রথম ইউনিটের বয়লার হাউসের মূল কাঠামোর ৮৬ মিটারের মধ্যে ৮৪ দশমিক ৫ মিটারের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৫০ ভাগের মতো। এককভাবে প্রথম ইউনিটের হিসাব করলে দেখা যাবে অগ্রগতি ৭০ ভাগের কাছাকাছি।

তিনি বলেন, ৮৬ মিটারের মূল বয়লার হাউসের মধ্যে ৮৪ দশমিক ৫ মিটারের কাজ শেষ হয়েছে। ছয়টা কোল ইয়ার্ডের মধ্যে প্রথম ইউনিটের সঙ্গে চারটির কাজ শেষ করা হবে। এরই মধ্যে একটির কাজ শিগগিরই শেষ হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কুলিং টাওয়ারের পাইলিং শেষ হয়েছে। নদী থেকে পানি আনার জন্য পাইপলাইন বসানো হয়ে গেছে। এখন পাম্প বসানোর কাজ চলছে। চলছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য স্থায়ী জেটি নির্মাণের কাজ। যেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা খালাস হবে।

আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি উৎপাদনে আসতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসার সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চালন লাইন শেষ হলেও চালু হবে না গোপালগঞ্জ সাবস্টেশন। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে পিজিসিবিকে এ বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পিজিসিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পায়রা থেকে গোপালগঞ্জের সঞ্চালন লাইন করতে ৪৩৪টি টাওয়ার স্থাপন করতে হবে। ৩২০টি টাওয়ারের বেজমেন্ট তৈরি ও ১০টি টাওয়ার স্থাপনের কাজ শেষ। পানির পরিমাণ বেশি থাকায় কাজ কিছুটা শ্লথগতিতে চলছে। এ ছাড়া আপৎকালীন সময়ের বিকল্প হিসেবে যদি কোনো কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে যায় অথচ সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ না হয় সেক্ষেত্রে পায়রায় পিজিসিবির যে সাবস্টেশন আছে, সেখানে একটি ৪০০/১৩২ কেভি ক্ষমতার ট্রান্সফরমার বসাব। এটি হলে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, তা ১৩২ কেভি ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। যার মাধ্যমে বরিশাল, পটুয়াখালীসহ আশপাশের এলাকায় বর্তমানে যেসব লাইন (১৩২ কেভি লাইন) আছে পিজিসিবির তার মাধ্যমেই প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। এরপর সঞ্চালন লাইন পুরো তৈরি হয়ে গেলে এই বিদ্যুৎই তখন ৪০০ কেভি ভোল্টেজে নতুন লাইন দিয়ে নিয়ে আনতে পারব।

এ বিষয়ে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনী বলেন, ‘আমরা দ্রুতগতিতে কাজ করে যাচ্ছি। সঞ্চালন লাইনের আগেই যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলে আসে, সেক্ষেত্রে বিকল্প ট্রান্সফরমারও বসানো হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।’

এই কেন্দ্র ছাড়াও পায়রায় আরো একটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। এ ছাড়া জার্মানির সিমেন্সের সঙ্গে এনডব্লিউপিজিসিএল আরো ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। এখানে ১০০ মেগাওয়াটের সৌর ও ৫০ মেগাওয়াটের বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলেয়ে ৬ হাজার ৩৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে এই এলাকা থেকে।

প্রসঙ্গত, চীনের আর্থিক সহায়তায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। চীনের এক্সিম ব্যাংক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ঋণ দিয়েছে। তবে চীন ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ মিলিয়ে পায়রায় মোট ৯৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।

"