যুদ্ধাপরাধ

পটুয়াখালীর ৫ আসামির রায় আজ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

পটুয়াখালীর ইসহাক সিকদারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল রোববার রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পটুয়াখালীর ইটাবাড়িয়া গ্রামে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, ১৭ জনকে হত্যা এবং অন্তত ১৫ নারীকে ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। প্রসিকিউশন ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ৩০ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন আদালত। ইসহাক সিকদারের সঙ্গে এই মামলার অন্য চার আসামি হলেন- আবদুল গণি হাওলাদার, আবদুল আওয়াল ওরফে মৌলভী আওয়াল, আবদুস সাত্তার প্যাদা ও সোলায়মান মৃধা। তারা সবাই বর্তমানে কারাগারে আছেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পাঁচ আসামির সবাই একাত্তরে ছিলেন মুসলিম লীগ সমর্থক। আর ২০১৫ সালে গ্রেফতার হওয়ার সময় তারা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতায় দাঁড়িয়ে একাত্তরে রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান বলে অভিযোগ করা হয়েছে এ মামলায়।

গত বছর ৮ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর এই পাঁচ আসামির বিচার শুরু করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ অল মালুম ও রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও সালাম খান।

 

প্রসিকিউটর চমন বলেন, এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১১ জন আসামিদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এদের মধ্যে ছয়জন মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামিদের মাধ্যমে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আর তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া বাকি সাক্ষীরা ভুক্তোভোগী পরিবারের সদস্য। ‘সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগই প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি বলে আমরা মনে করি। তাই প্রসিকিউশনের আইনি যুক্তিতর্কে পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড চেয়েছি আমরা। আশা করি, কাক্সিক্ষত রায় পাব।

অন্যদিকে, আসামিদের আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, হত্য ও ধর্ষণের যে দুটি অভিযোগ প্রসিকিউশন এনেছে, সে বিষয়ে একটি প্রদর্শনী (এক্সিবিট) ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে তারা। সেখানে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম ওই ঘটনার তদন্ত করে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনে ওই দুটি ঘটনায় যেসব ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা এসেছে, সেখানে এই আসামিদের নাম নেই। এ ছাড়া যেসব ভিকটিম ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের তদন্তের সময়ও তাদের ভিডিও জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কিন্তু এই সাক্ষিরা এ মামলার পাঁচ আসামির কথা বলেননি।

প্রসিকিউশনের তদন্ত দল পটুয়াখালীতে কাজ শুরু করার পর ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল এই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওই বছর ১ অক্টোবর তাদের গ্রেফতার করা হয়।

"