জলাতঙ্কের টিকা নেই মেডিকেলে

জাবিতে কুকুর আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কুকুরের উপদ্রব অত্যধিক মাত্রায় বেড়ে গেছে। সকাল ও রাতের বেলা বিশ্ববিদ্যালয়ে বের হলেই কুকুরের আক্রমণের আশঙ্কা থাকে। অনেকে সময় শিক্ষার্থীসহ অনেকেই কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে জলাতঙ্কের টিকা না থাকায় আতঙ্কের মাত্রা আরো বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে অসংখ্য কুকুরের বাস। তাছাড়া প্রায়ই নতুন করে কুকুরের দল বিশ্ববিদ্যালয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। এরা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করে। যেসব শিক্ষার্থী সকাল ও রাতের বেলা হাঁটতে বের হন তাদেরকে বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়। কাউকে একা চলতে দেখলেই তেড়ে আসে এসব কুকুর। তবে নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের সামনে, মওলানা ভাসানী হলের পাশের এবং শহীদ রফিক জব্বার হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করা কুকুরগুলো বেশি উৎপাত করে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

জোবায়দাতুল মদিনা নামের এক শিক্ষার্থী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে গেরুয়ার ঢালে একটি কুকুর এক শিশুর হাতে ও পায়ে কামড় দিয়ে আহত করে।

আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কিছুদিন আগে রাতের বেলা একদল কুকুর আমাকে আক্রমণের চেষ্টা করে। কোনোক্রমে বেঁচে গেছি। অনেকেই কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন। তাই অবিলম্বে ক্যাম্পাস থেকে কুকুর বিতাড়ন করা উচিত।

সরেজমিনে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের সামনে, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের পূর্ব পাশে, চৌরঙ্গী মোড়ে, জয় বাংলা গেটে, বটতলার দুইটি স্থানে, শহীদ সালাম-বরকত হলের পাশে, মওলানা ভাসানী হলের পাশে, পরিবহন চত্বরে এবং শহীদ রফিক জব্বার হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের মাঝামাঝি স্থানসহ বিভিন্ন স্থানে দলবদ্ধভাবে কুকুর অবস্থান করে। একেকটি দলে কুকুরের সংখ্যা ২ থেকে ১০-১২টি। এসব স্থানে আশ্রয় নেওয়া কুকুরের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। এদের মধ্যে কয়েকটি রুগ্ন কুকুরও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কুকুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিভিন্ন সময়ে চলে আলোচনা-সমালোচনা। ফেসবুকে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা। তবে অনেককেই আবার ক্যাম্পাসে কুকুর থাকার পক্ষে মন্তব্য করতে দেখা যায়।

এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে মন্তব্য করেন, ‘কাল রাত (শুক্রবার) ১১টার সময় লাইব্রেরির সামনে ৪টা কুকুর আমাকে আক্রমণ করে। প্রায় ৫ মিনিট খারাপ অবস্থায় ছিলাম। পরে পেছনে কিছু ভাইয়েরা আসে তারপর আমি চলে আসি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেকেই প্রায়ই কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নেন। তবে মেডিকেল সেন্টারে জলাতঙ্ক রোগের টিকা না থাকায় শিক্ষার্থীদেরকে অন্যত্র থেকে টিকা দিতে হয়। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত দুই রোগী মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক সেবা নিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে প্রায়ই এরকম রোগী চিকিৎসা সেবা নেন। তবে কুকুরের শরীরের র‌্যাবিছ ভাইরাস আছে কি না সেটা নিশ্চিত না হওয়ায় বাইর থেকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেন মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রায় তিন বছর আগে পাগলা কুকুরে কামড়ানো ৭-৮ জন রোগী আসেন। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক সেবা দিয়ে প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়।

মেডিকেল সেন্টারের খন্ডকালীন চিকিৎসক ডা. মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা নেই। কুকুরে কামড়ানো কোনো রোগী আসলে আমরা ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা ও টিটিনাসের টিকা দিয়ে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি কুকুরের শরীরে রেবিজ ভাইরাসের প্রাথমিক স্টেপ সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এটা আজীবন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে, আবার কখনো র‌্যাবিছ ভাইরাসে রূপ নিতে পারে। যে কুকুরটি কামড় দিয়েছে সেটার শরীরে র‌্যাবিছ ভাইরাস আছে কি না আমরা সেটা জানতে পারি না। এ জন্য কুকুরে কামড়ানো কোনো রোগী এলে আমরা রিস্ক নিই না। তাকে র‌্যাবিছ ভাইরাসের প্রতিষেধক দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।’

এদিকে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস কুকুর বিতাড়নের উদ্যোগ নিলেও কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাধায় তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলে জানালেন বিশ্ববিদ্যালয় এস্টেটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন। তিনি বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন আগে কুকুর বিতাড়নের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে শিক্ষার্থীদের কারণে আমরা বিতাড়ন কার্যক্রম স্থগিত করেছি। কয়েকজন শিক্ষার্থী কুকুর বিতাড়নে পদক্ষেপ বন্ধে উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কয়েকজন শিক্ষকও কুকুর বিতাড়নের বিপক্ষে ছিলেন। তবে ক্যাম্পাসে কুকুরের উপদ্রব মাত্রারিক্ত বেড়ে গেছে। তবে আমরা কুকুর বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

"