পলি সরিয়েও কাটছে না পদ্মার নাব্য সংকট

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুট। নৌরুটের লৌহজং চ্যানেলে ১০ লাখ ঘনমিটার পলি জমেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ঘনমিটার পলি মাটি ড্রেজিং করে অপসারণ করা হলেও নাব্য সংকট কাটেনি। প্রতি বছরই এ মৌসুমে নাব্য সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বিঘিœত হয়। গতকাল রোববার ভোর থেকে ৬টি কে-টাইপ, ৩টি মিডিয়াম ফেরি চলছে নৌরুটে। এর আগে গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে লৌহজং চ্যানেলে নাব্য সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ৪টি কে-টাইপ ফেরি হালকা ও ছোট গাড়ি পারাপার শুরু করে। ভারী গাড়িগুলোকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। বিকল্প চ্যানেল দিয়ে গিয়ে আগের চ্যানেল কিংবা একই রুটে চলতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। এতে করে সময় লাগছে দুই থেকে দেড় ঘণ্টা। ঘাট এলাকায় পার হওয়ার অপেক্ষায় ২৫০ গাড়ি রয়েছে, এর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী ছোট গাড়িই বেশি।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, বিকল্প চ্যানেলেও পলি জমেছে। যার কারণে অবস্থা খুবই খারাপ। নৌরুটটি ফিল্টেশন ও ন্যারো (সংকুচিত) হয়ে যাওয়ায় ফেরি চলছে ঝুঁকি নিয়ে। প্রায়ই চ্যানেলে আটকে যায় ফেরিগুলো। পরে বিআইডব্লিউটিএর টাগবোট এনে তা সচল করা হয়। বর্তমানে চ্যানেলে পানির গভীরতা ৪ ফুট থেকে ৫ ফুট। কিন্তু ফেরি চালাতে গভীরতা প্রয়োজন সাড়ে ৭ ফুট। পলি জমে যাওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এভাবে চালানোর ফলে ফেরির ইঞ্জিনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যে হারে পলি জমছে তা কেটে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। প্রতিবছর ঈদের আগের এই সময়টাতে এই সমস্যা দেখা দেয়। তিনি আরো জানান, বর্তমানে ৯টি ফেরি চলছে নৌরুটে। লৌহজং চ্যানেলে নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় ফেরি চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। বর্তমানে সরাসরি মূল চ্যানেল ও বিকল্প চ্যানেলও ব্যবহার করতে হচ্ছে। যাত্রীবাহী হালকা যানবাহনগুলোকে ফেরির মাধ্যমে পারাপার করে দেওয়া হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান বলেন, লৌহজং চ্যানেলে বর্তমানে ৭টি ড্রেজার কাজ করছে পলি অপসারণে। জুলাই মাস থেকে শুরু করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে এই ড্রেজিং। তবে পলি কেটেও সরানো যাচ্ছে না। নৌরুটের লৌহজং চ্যানেলে ১০ লাখ ঘনমিটার পলি জমেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ঘনমিটার পলি ড্রেজিং করে অপসারণ করা হয়েছে। তীব্র স্রোত ও আশপাশ থেকে তীর ভেঙে আবার নদীতে জমছে। এই মৌসুমে সুবিধাজনকভাবে ফেরি চলবে না। তবে, এতে এবারের ঈদে তেমন সমস্যা হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সবগুলো ফেরি চালুর জন্য চাপ দিচ্ছেন। এ কারণে ফেরিগুলো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি যাত্রী, যানবাহন নিয়ে নদী পারাপারে ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) এ এস এম আরেফিন জানান, মে মাস থেকে ১২ জুন পর্যন্ত চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের কাজ চলেছে। ১২ জুন থেকে আড়াই কিলোমিটার ডাউনে গিয়ে একটি বিকল্প চ্যানেল করা হয়। যেই রুটটিতে শনিবার সমস্যা দেখা দেওয়ায় ফেরি বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া সরাসরি আগের চ্যানেলটিতে স্রোত বেশি থাকায় কাঁঠালবাড়ি ঘাটগামী ফেরিগুলো চলতে সমস্যায় পড়ছে। সরাসরি সোজা চ্যানেলের মুখ হাফ কিলোমিটার গিয়ে যুক্ত ছিল বিকল্প চ্যানেলে। এখন পলি জমে বিকল্প চ্যানেলও ভড়াট হয়ে যাওয়ায় ড্রেজিং করা হয়।

"