সমঝোতা স্মারক সই, নেপাল থেকে আসবে জলবিদ্যুৎ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে নেপালের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ; যার মধ্য দিয়ে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া গতি পাবে। এই সমঝোতার আওতায় নেপাল থেকে ভারত হয়ে জলবিদ্যুৎ আমদানি ছাড়াও নেপালের বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের সরকারি বা বেসরকারি কোম্পানির বিনিয়োগের বিষয়গুলো রয়েছে। গতকাল শুক্রবার কাঠমান্ডুতে নেপালের জ্বালানি, পানি ও সেচ মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে ওই সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং নেপালের জ্বালানিমন্ত্রী বর্ষা মান পুন অনন্ত। খবর বাসস। চুক্তির জন্য নেপাল সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, ‘অনেক অপেক্ষার পর এই চুক্তি হলো।’ বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশেরই উন্নয়নে সহযোগিতা আরো বাড়ানো দরকার। বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ সব ক্ষেত্রেই এই সহযোগিতার প্রয়োজন। নেপাল থেকে আমরা অল্প পয়সায় বিদ্যুৎ পাব। আগামী ১০ বছরের মধ্যে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।’

গত বৃহস্পতিবার নেপালে পৌঁছানোর পর শুক্রবার সকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নসরুল হামিদ। এরপর জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়াতে এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং একটি স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করবে।

ভারতের জিএমআর এনার্জি নেপালে ‘আপার কারনালি’ প্রকল্পের আওতায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার জন্য গত বছর জিএমআরইয়ের সঙ্গে ওই সমঝোতা স্মারকে সই করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ভারত হয়ে আন্তদেশীয় গ্রিড লাইনের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারত থেকে বহরমপুর হয়ে ৫০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে। ভবিষ্যতে ভারত থেকে আরো বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

"