হত্যার পরপরই ‘খুনি’কে পুড়িয়ে মারল জনতা

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

দিনাজপুর প্রতিনিধি
ama ami

একজনকে হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘খুনি’কে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ও সকাল ৮টার দিকে বীরগঞ্জের শালবাগান জেলখানা গেট এলাকায় এই দুই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক শিশুসহ দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দফায় দফায় ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় জনতা। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যার শিকার দুজন হলেন, ভ্যানচালক সুরুজ মিয়া ও রবিউল ইসলাম। দুজনেরই বাড়ি বীরগঞ্জ পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জগদল (ডাঙ্গাপাড়া) মহল্লায়। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সুরুজ আলী ও রবিউল প্রতিবেশী ছিলেন। দুই মাস আগে ভাতিজার মৃত্যু নিয়ে রবিউলকে সন্দেহ করতেন সুরুজ আলী। ধারণা করা হচ্ছে, এর জের ধরেই রবিউল ইসলাম গতকাল ভোরে সুরুজ আলীকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ সময় সুরুজ আলীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আরেক প্রতিবেশী শহীদ (৫০) ও তার ছেলে একরামুলকে (৩) কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যান রবিউল। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া করে ১৩ মাইল গড়েয়া এলাকা থেকে রবিউলকে ধরে নিয়ে আসে সুরুজের বাড়িতে। সেখানেই তাকে পিটুনি দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়। পরে উত্তেজিত এলাকাবাসী রবিউলের বাড়িতে হামলা চালায়। শহরের শালবাগান এলাকায় সকাল ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তায়েজ উদ্দিন জানান, রবিউল মাদকাসক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। রবিউলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে থানা ও ইউএনওর কাছে বহু অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বীরগঞ্জ থানার ওসি শাকিলা পারভীন জানান, রবিউলের বিরুদ্ধে চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। মাদক নিরাময় কেন্দ্রে কয়েকদিন ছিলেন তিনি। ১৫ দিন আগে সেখান থেকে ফিরে আসেন।

ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের লাশ দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রবিউলের মা ও বোন পুলিশ হেফাজত রয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেও জানান ওসি।

"