পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে ৩ গ্রামের ৬০০ পরিবার

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

এস এইচ এম তরিকুল, রাজশাহী

ভরা বর্ষায় পূর্ণাঙ্গ যৌবনে ফিরেছে পদ্মা। কিন্তু সে যৌবনের ¯্রােতে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, ভূমি অফিস, হাটবাজার ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৩ গ্রামের প্রায় ৬০০ পরিবার হুমকিতে পড়েছে। রাজশাহীতে প্রতিদিনই গড়ে ১০-১২ সেন্টিমিটার পানি বাড়ছে। ইতোমধ্যে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পদ্মাপাড়ে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ফলে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ওই এলাকার পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গায় গত দুই সপ্তাহ থেকে চলা পদ্মার ভাঙনের মুখে পড়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি বিওপি ক্যাম্প। নদীপাড় থেকে মাত্র ৮০ মিটার দূরে থাকা বিজিবি ক্যাম্পটি বাঁচানোর চেষ্টায় ফেলা হচ্ছে বালুর বস্তা।

এদিকে, পদ্মায় পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ¯্রােতের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভাঙন থেকে রাজশাহী শহরকে রক্ষা করতে

গত বছর নগরীর শ্রীরামপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। টি-গ্রোয়েনটিকেও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সাজ্জাদ সরোয়ার জানান, পদ্মা থেকে চরবাগডাঙ্গা বিওপি মাত্র ৮০ মিটার দূরে থাকায় যেকোনো সময় ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করায় তারা বালুর বস্তা ফেলছে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক আমানুল হক আমান গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, উপজেলার নদীতীরবর্তী ৯ গ্রামের ১০ কিলোমিটার সীমানায় ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ভাঙনের ফলে গত এক সপ্তাহে প্রায় হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে সিংহভাগ ক্ষতি হয়েছে আম, খেজুর ও পিয়ারা বাগানসহ ফসলি জমির। এ ছাড়াও বাঘার চরাঞ্চলে দুই বছর পূর্বে ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়টির চারটি পিলার ইতোমধ্যেই চলে গেছে পদ্মাগর্ভে। ফলে পাঠদানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখানকার ৬১৩ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের ভাঙন পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাসিমা খাতুন। পরিদর্শনকালে তিনি নদীতীরবর্তী এলাকায় স্টিল জাতীয় সামগ্রী দিয়ে বিদ্যালয় তৈরি করে শিক্ষা কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে দ্রুত প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোরও নির্দেশ দেন নাসিমা খাতুন।

চকরাজাপুর এলাকার খিদির শিকদার জানান, পদ্মার চরের একমাত্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চকরাজাপুর বাজারও ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত ৬ দিন আগে বিদ্যালয়ের টিনশেড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীরবর্তী আসলাম শিকদার, আলম হোসেন ও আকতারুজ্জামান জানান, যথাযথ উদ্যোগের অভাবে ১০ কিলোমিটার বাঁধ অরক্ষিত রয়েছে। গত ৭ বছরে পদ্মার ভাঙনে এ এলাকার প্রায় ৫০০ বাড়িসহ ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার এবং বিজিবি ক্যাম্পসহ কয়েক হাজার বিঘা আবাদি-অনাবাদি জমি চলে গেছে পদ্মার পেটে। এছাড়াও ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে চলতি বছরে অর্ধশত পরিবার।

কিন্তু রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার বিকালে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত আমার জেলায় ভাঙনের খবর পাইনি। তবে এক সপ্তাহ ধরে পানি বাড়ছে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ সেন্টিমিটার। সোমবার দুপুর ১২টায় রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক শূন্য ৭ মিটার। মঙ্গলবার ছিল ১৬ দশমিক ১৯ মিটার। আরো ১ থেকে দেড় মিটার পানি বাড়লেই বাঘা এলাকায় ভাঙন শুরু হবে বলেও দাবি করেন এই প্রকৌশলী।

 

"